পৃথিবীর সবচেয়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশগুলোর একটি নামিবিয়া। উত্তরে অ্যাংগোলা, পূর্বে বতসোয়ানা, দক্ষিণে সাউথ আফ্রিকা আর পশ্চিমে সুবিশাল আটলান্টিক মহাসাগর; তার মাঝে প্রকৃতির অসামান্য সৌন্দর্য্য আর রহস্য নিয়ে জেগে থাকা দেশ নামিবিয়া।
মরুভূমি আর সমুদ্রের অন্তমিল দেখতে হলে যেতে হয় সেখানে। সঙ্গে আছে বিরল গোলাপি হ্রদ। এই অনন্য প্রাকৃতিক নিদর্শন দেখতে বাংলাদেশ থেকে ছুটে গিয়েছিলেন তরুণ পরিব্রাজক নূর ই আলম নিপু। দক্ষিণ আফ্রিকার এই দেশে তিনি কাটিয়েছেন বেশ কিছুদিন, ঘুরেছেন দেশটির নানা প্রান্ত।
পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন মরুভূমি নামিবিয়ার নামিব মরুভূমি। এর লালচে বালিয়াড়ি আর সমুদ্রঘেঁষা প্রান্তর অনন্য এক অভিজ্ঞতা দেয় ভ্রমণপিপাসুদের। সে অভিজ্ঞতার জন্য নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহোক থেকে যাত্রা শুরু করেন নিপু। প্রথমে যান দেশটির পর্যটন শহর সোকাপমুন্ডে।
এই ভ্রমণে তিনি কাছ থেকে দেখেছেন নামিব মরুভূমির বিস্তীর্ণ বালিয়াড়ি এবং সমুদ্র উপকূলের অপূর্ব দৃশ্য। সোকাপমুন্ড এলাকার কাছাকাছি একটি সল্ট মাইন ঘুরে দেখার সময় তিনি প্রত্যক্ষ করেন, মনোমুগ্ধকর এক গোলাপি হ্রদ। পরে জানতে পারে, লবণ ও প্রাকৃতিক উপাদানের কারণে পানির রঙ এমন গোলাপি আভা ধারণ করেছে। নিপুর বুঝতে বাকি রইল না, এটি পৃথিবীর বিরল প্রাকৃতিক দৃশ্যগুলোর একটি।
নিপু বলেন, ‘পৃথিবীর খুব কম জায়গায় মরুভূমি ও সমুদ্র এত কাছাকাছি এসে মিলিত হয়েছে। নামিব মরুভূমি আর আটলান্টিক মহাসাগরের মিলনস্থলে দাঁড়িয়ে প্রকৃতির যে অপূর্ব রূপ দেখেছি, তা চিরকাল মনে গেঁথে থাকবে। প্রকৃতি এখানে যেন কল্পনার চেয়েও আলাদা এবং সুন্দর।’
ওই অঞ্চলের আরেকটি অনন্য প্রাণী গোলাপি রঙের ফ্লেমিঙ্গো। উপকূলীয় জলাশয়ে হাজারো ফ্লেমিঙ্গোর বিচরণ আর ওড়াউড়ি দেখে মুগ্ধতায় ভেসে গেছেন নিপু। সেই সঙ্গে জার্মান উপনিবেশের প্রাচীন সব স্থাপনার কারুকাজ যেন ইতিহাসের সাক্ষী দেয়। সেই সাক্ষ হৃদয়ে ধারণ করে এসেছেন নিপু। কিন্তু সেখানে গেলে খাবারের ব্যবস্থা কেমন?
নিপু জানালেন, খাবারের দিক থেকেও মুসলিম ভ্রমণকারীদের জন্য কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। আন্তর্জাতিক ফাস্টফুড চেইন কেএফসিসহ কয়েকটি স্থানে হালাল খাবার পাওয়া যায়।
সুদূর নামিবিয়ায় গিয়েও বাংলাদেশিদের দেখা পেলেন নিপু। জানালেন, দেশটিতে ত্রিশ জনের মতো বাংলাদেশি বসবাস করেন। তাদের মধ্যে রশিদ ভাই একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ থেকে কেউ নামিবিয়ায় ভ্রমণে গেলে তিনি আন্তরিকভাবে সময় দেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেন। তবে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য নামিবিয়া ভ্রমণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভিসা প্রক্রিয়া এবং তুলনামূলক বেশি বিমান ভাড়া। সরাসরি ভিসা পাওয়া কিছুটা জটিল হলেও একটি সহজ উপায় রয়েছে। যদি কেউ আগে দক্ষিণ আফ্রিকা ভ্রমণ করেন, সেখান থেকে নামিবিয়ার ভিসা তুলনামূলক সহজে, অনেক ক্ষেত্রে একদিনের মধ্যেই পাওয়া সম্ভব।
নূর ই আলম নিপু ইতোমধ্যে বিশ্বের ২৫টিরও বেশি দেশ ভ্রমণ করেছেন। ভ্রমণের সময় তিনি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই উপভোগ করেন না, বরং প্রতিটি দেশের সংস্কৃতি, মানুষের জীবনযাপন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতা নিয়েও কনটেন্ট তৈরি করেন।
পাশাপাশি ভ্রমণ সংক্রান্ত নানা টিপস ও বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যাতে ভবিষ্যৎ ভ্রমণকারীরা উপকৃত হতে পারেন। চাকরির পাশাপাশি ভ্রমণ করা মোটেও সহজ নয়। কিন্তু নিপুর ভাষ্য, ‘চাকরি করে নিয়মিত ছুটি পাওয়া কঠিন, তারপরও সময় বের করে পৃথিবীকে কাছ থেকে দেখার চেষ্টা করছি।’
নিপুর স্বপ্ন, বয়স ৪০ বছর হওয়ার আগেই বিশ্বের অন্তত ১০০টি দেশ ভ্রমণ করবেন। সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে খুব শিগগিরই তিনি ইউরোপ সফরের পরিকল্পনা করছেন। আগামী ভ্রমণ পরিকল্পনায় রয়েছে যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডন। সঙ্গে থাকবে ইউরোপের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে সমৃদ্ধ বলকান অঞ্চলের কয়েকটি দেশ।








