২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আড়াই মাস। মেগা ইভেন্ট সামনে রেখে এমাসে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। ২৬ সদস্যের দলে জায়গা হয়নি নেইমারের। সামনে এলো আরও উদ্বেগের খবর। ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ডের বিশ্বকাপ খেলাই হচ্ছে না।
ইউরোপের সংবাদমাধ্যমে খবর, বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ‘প্রায় বিশ্বকাপের বাইরেই’ রাখা হয়েছে নেইমারকে, শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি। চোটের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকা এবং ফেডারেশনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন- এসব কারণে পরিস্থিতি ‘খুবই জটিল’ হয়ে উঠেছে তার জন্য।
ব্রাজিল দলে ফেরার জন্য নেইমারের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফিটনেস। ২০১৩ সালে ইউরোপীয় ফুটবলে যোগ দেয়ার পর থেকে এপর্যন্ত ৪০টিরও বেশি চোট এবং সবমিলিয়ে ১ হাজার ৫০০ দিনেরও বেশি মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে তাকে।
সবশেষ ২০২৩এর অক্টোবরে পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার পর প্রায় একবছর মাঠের বাইরে থেকে ফিরেছিলেন নেইমার। ২০২৪ সালের শেষদিকে আল-হিলাল ছেড়ে সান্তোসে যোগ দেয়ার পর থেকে তার ফিটনেস নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা দানা বেঁধেছে। সান্তোসের হয়ে খেলার সময় চোট এড়াতে নেইমারকে টানা না খেলিয়ে বিশ্রাম দিয়ে নামানো হচ্ছে।
গত ১০ মার্চ মিরাসোল বনাম সান্তোসের ম্যাচ গ্যালারিতে বসে দেখেছিলেন কোচ আনচেলত্তি। মূলত নেইমারের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স যাচাই করতে সেখানে গিয়েছিলেন। ম্যাচে নেইমার মাঠে নামেননি। কোচিং স্টাফরা সতর্কতামূলক বিশ্রাম হিসেবে দেখলেও ব্রাজিল কোচ এবং ফেডারেশনের নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেননি।
গতবছরের মে’তে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেয়া আনচেলত্তি অনেকবারই বলেছেন, দলে সুযোগ পেতে শতভাগ ফিট থাকার কোন বিকল্প নেই। গতকাল দল ঘোষণায় নেইমারকে না রাখার কারণ হিসেবে আবারও সেটিই মনে করিয়ে দেন ইতালিয়ান কোচ, ‘নেইমার পুরোপুরি ফিট নয় বলেই তাকে ডাকা হয়নি।’
দলে জায়গা না পেয়ে কষ্ট চেপে রাখতে পারেননি নেইমার। আনচেলত্তির সিদ্ধান্তের পর হতাশা প্রকাশ করেন। ব্রাজিল কোচ অবশ্য জানিয়েছিলেন নেইমারের সুযোগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি। সবশেষ ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামা হয়নি তার।


