চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি

    https://www.youtube.com/live/o6SJvPy15o4?si=NGcg3Is-DnwAnvmd

No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

এক কোটির খবরে তোলপাড়

প্রথম আলো-নেত্র নিউজ অনুসন্ধান: জামিনের জন্য এক কোটি টাকা চান আইসিটি প্রসিকিউটর

চ্যানেল আই অনলাইনচ্যানেল আই অনলাইন
১২:১৪ অপরাহ্ন ১০, মার্চ ২০২৬
- সেমি লিড, বাংলাদেশ
A A
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

আওয়ামী লীগের কারাবন্দী একজন সাবেক রাজনীতিককে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা চেয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) একজন প্রসিকিউটর (রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী) হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। রেকর্ডিংগুলো সংগ্রহ করেছে প্রথম আলো ও নেত্র নিউজ।

সংবাদমাধ্যম প্রথমআলো এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

রেকর্ডিংগুলোয় চট্টগ্রাম-৬ আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে করা মামলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রসিকিউটরদের একজনের কথোপকথন রয়েছে। এই প্রসিকিউটরের নাম মো. সাইমুম রেজা তালুকদার। জামিনের বিষয়ে তিনি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন। প্রথম আলো ও নেত্র নিউজ রেকর্ডিংগুলো যাচাই করে দেখেছে।

হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। রেকর্ডিংগুলো সংগ্রহ করেছে প্রথম আলো ও নেত্র নিউজ।

রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী ছবি সংগৃহীত

ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ২০২৪ সালের জুলাইয়ে চট্টগ্রাম শহরে শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন তিনি।

রেকর্ড করা হোয়াটসঅ্যাপ কলগুলোর একটিতে ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের এক সদস্যকে আগের একটি আলাপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাইমুম রেজা তালুকদারকে বলতে শোনা যায়, শেষ পর্যন্ত তিনি যদি ফজলে করিম চৌধুরীকে বের করতে পারেন তখন একটি ‘বেশ ভালো অ্যামাউন্টের’ বিষয় থাকবে।

Reneta

তিনি বলেন, ‘আমি ওয়ান ক্রোরের (১ কোটি টাকা) কথা বলেছিলাম।’ এক কোটি টাকা থেকে সাইমুম রেজা তালুকদার অগ্রিম ১০ লাখ টাকা দেওয়ার জন্যও বলেন।

তিনি বলেন, যদি ১০ লাখের মতো অগ্রিম দেওয়া যায়, তাহলে খুব ভালো হয় নগদে।

সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি জানার পর তাঁকে ওই মামলা থেকে সরিয়ে দেন আইসিটির তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তবে ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য দায়িত্ব থেকে তাঁকে সরানো হয়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর পদে পরিবর্তন আসে। তখন ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারকে সাইমুম রেজা তালুকদার জানান, তিনি আবার মামলাটিতে ফিরে আসবেন।

ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের একজন সদস্য জানান, এরপর তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকে নতুন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে সাইমুম রেজা তালুকদারের কথোপকথনের কয়েকটি রেকর্ডিং দেওয়া হয়। এরপর ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারকে সাইমুম রেজা তালুকদার বলেন যে মন্ত্রী তাঁকে গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছেন।

এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের দাবি, সাবেক এই সংসদ সদস্যকে আটকের প্রায় দুই মাস পর গত বছরের এপ্রিলে প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার প্রথম তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

তাঁরা জানান, ওই প্রসিকিউটর তাঁদের বলেছিলেন, অর্থের বিনিময়ে তিনি ফজলে করিম চৌধুরীর জামিন নিশ্চিত করতে পারবেন। তদন্ত প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি পেতেও সহায়তা করতে পারবেন তিনি।

ওই পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তাঁরা কখনোই ওই প্রসিকিউটরকে টাকা দেননি, আর দেওয়ার ইচ্ছাও ছিল না। বরং তাঁরা প্রসিকিউটরের সঙ্গে কথোপকথন চালিয়ে যান। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তাঁরা এমনটি করেছেন, যাতে তাঁরা দুর্নীতির প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেন।

সাইমুম রেজা তালুকদার পেশায় একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাকার নাগরিক সমাজে পরিচিত মুখ। ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ও সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ হলেও আইসিটিতে নিয়োগ পাওয়ার আগে তাঁর মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা খুব কম ছিল।

সাইমুম রেজা তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘এটি সত্য নয়।’ এ অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘এমনকি আমি যদি (জামিন পাইয়ে দিতে) চাইতামও, তবে কোনো একক প্রসিকিউটরের পক্ষে তা সম্ভব নয়। সবকিছু প্রধান প্রসিকিউটরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়…এটি একটি দলগত কাজ।’

সাইমুম রেজা বলেন, তাঁর পদত্যাগের সঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, ‘আমি কয়েক দিন ধরে পদত্যাগ করার কথা ভাবছিলাম। কারণ, আমি আমার আগের পেশা, অর্থাৎ শিক্ষকতায় ফিরে যাওয়ার কথা চিন্তা করছিলাম।’

ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের দাবি, পরবর্তী আলাপগুলোয় সাইমুম রেজা তাদের আইসিটির একজন তদন্ত কর্মকর্তাকে টাকা দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন। সাইমুমের দাবি, ওই কর্মকর্তা ফজলে করিম চৌধুরীর বিচারের দাবি করে আসা মুনিরিয়া নামে একটি ধর্মীয় সংগঠন থেকে ঘুষ নিয়েছেন।

সাবেক প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম তাঁর সঙ্গে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কথা বলেছেন অথবা তাঁকে ফজলে করিম চৌধুরীর মামলা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন—এমন দাবি অস্বীকার করে সাইমুম রেজা বলেন, ‘না, আমার এমন কিছু মনে পড়ছে না।’

নতুন আইনমন্ত্রী তাঁকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানোর হুমকি দিয়েছিলেন—এমনটিও সাইমুম রেজা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তিনি মন্ত্রীর সঙ্গে কেবল শিক্ষকতায় ফিরে যাওয়ার বিষয়েই কথা বলেছেন। এ বিষয়ে তিনি আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান কোনো মন্তব্য করেননি।

ট্রাইব্যুনালে মামলা

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য হয়েছেন ফজলে করিম চৌধুরী। নিজ এলাকায় প্রতিপক্ষের নেতা–কর্মীদের দমন–পীড়ন করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় চট্টগ্রাম শহরে তিনজন নিহত হন। ওই ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফজলে করিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। দুই দিন পর অর্থাৎ ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই শহরে আরও দুটি হত্যার ঘটনায়ও ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তাঁকে প্রথমবার আইসিটিতে হাজির করা হয়।

আদালতে শুনানি শেষে চট্টগ্রামের রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীকে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর, চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণেফাইল ছবি

ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি। এর বাইরে দণ্ডবিধির আওতায় করা মামলায় তাঁকে ফৌজদারি আদালতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

২০২৫ সালের শেষের দিকে পরিবারটি সাইমুম রেজার সঙ্গে তাদের কথোপকথন রেকর্ড করা শুরু করে বলে জানিয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, সাইমুম রেজা মোট ২৬ বার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এবং নিজে অন্তত ১৪ বার ঘুষ চেয়েছেন।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা হয় এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে এই ট্রাইব্যুনালে।

কথোপকথন

এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের দাবি, সাবেক এই সংসদ সদস্যকে আটকের প্রায় দুই মাস পর গত বছরের এপ্রিলে প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার প্রথম তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁরা জানান, ওই প্রসিকিউটর তাঁদের বলেছিলেন, অর্থের বিনিময়ে তিনি ফজলে করিম চৌধুরীর জামিন নিশ্চিত করতে পারবেন। তদন্ত প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি পেতেও সহায়তা করতে পারবেন তিনি।

শুরুর দিকের সেই কথোপকথনগুলো রেকর্ড করা হয়নি বলে পরিবারটি জানিয়েছে।

পরিবারের দাবি, পরবর্তী আলাপগুলোয় সাইমুম রেজা তাদের আইসিটির একজন তদন্ত কর্মকর্তাকে টাকা দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন। সাইমুমের দাবি, ওই কর্মকর্তা ফজলে করিম চৌধুরীর বিচারের দাবি করে আসা মুনিরিয়া নামে একটি ধর্মীয় সংগঠন থেকে ঘুষ নিয়েছেন।

মুনিরিয়া টাকা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তদন্ত কর্মকর্তাও অর্থ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

২০২৫ সালের শেষের দিকে পরিবারটি সাইমুম রেজার সঙ্গে তাদের কথোপকথন রেকর্ড করা শুরু করে বলে জানিয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, সাইমুম রেজা মোট ২৬ বার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এবং নিজে অন্তত ১৪ বার ঘুষ চেয়েছেন।

তবে ওই দিন সন্ধ্যায় আরেকটি কথোপকথন রেকর্ড করা হয়। তাতে সাইমুম রেজা তালুকদার আবারও অর্থের বিষয়টি তোলেন। ফজলে করিমের পরিবার তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিল, তিনি কত টাকা চান। তিনি বলেছিলেন, ‘…আলটিমেটলি যদি একটা ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে সব মিলিয়ে মানে ওনার ব্যাপারে একটা এক্সপেক্টেশন থাকবে যে ওয়ান।’ তিনি এটি কিস্তিতেও হতে পারে বলে জানান। সেটা ১০, ২০…যা-ই হোক না কেন।

গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবার তাঁর জরুরি চিকিৎসা চেয়ে ট্রাইব্যুনালে লিখিত আবেদন করে। আবেদনটি জমা দেওয়ার প্রায় ১০ মিনিট পর সাইমুম রেজা তালুকদার তাঁদের ফোন করেন। পরিবারের ভাষ্যমতে, তিনি (সাইমুম) জানান, ইতিমধ্যেই আবেদনের বিষয়ে অবগত আছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন তাঁরা আগে থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। তিনি ইঙ্গিত দেন, আবেদনটি মঞ্জুর করার জন্য অর্থের প্রয়োজন হবে। এই ফোনকলটি রেকর্ড করা হয়নি।

তবে ওই দিন সন্ধ্যায় আরেকটি কথোপকথন রেকর্ড করা হয়। তাতে সাইমুম রেজা তালুকদার আবারও অর্থের বিষয়টি তোলেন। ফজলে করিমের পরিবার তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিল, তিনি কত টাকা চান। তিনি বলেছিলেন, ‘…আলটিমেটলি যদি একটা ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে সব মিলিয়ে মানে ওনার ব্যাপারে একটা এক্সপেক্টেশন থাকবে যে ওয়ান।’ তিনি এটি কিস্তিতেও হতে পারে বলে জানান। সেটা ১০, ২০…যা-ই হোক না কেন।

পরিবারটিকে তিনি এই কথোপকথন দিয়ে ১ কোটি টাকা এবং ১০ বা ২০ লাখ টাকার কিস্তি বুঝিয়েছিলেন—পরবর্তী কথোপকথনগুলোয় এ বিষয় স্পষ্ট হয়েছিল।

একই কথোপকথনের সময় সাইমুম রেজা মামলার বিষয়ে প্রসিকিউশনের ভেতরের সভাগুলো নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন যে তদন্তকারীরা প্রমাণ খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছেন, ‘যেহেতু পুলিশ কিছুই পাচ্ছে না, এখন বড় বড় কয়েকজন দিয়ে ওরা এটা করতে চায়। অবশ্যই তারা তাকে ফাঁসাতে চায়—ফজলে করিম সাহেবকে ফাঁসাতে চায়।’

জানতেন তৎকালীন প্রধান প্রসিকিউটর

গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ফজলে করিমের পরিবারের সদস্যরা ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেন এবং অর্থ চাওয়ার অভিযোগের বিষয়টি জানান।

ফজলে করিমের পরিবারের একজন সদস্য বলেন, ‘আমরা তাঁকে (প্রধান প্রসিকিউটর) এই দুর্নীতি এবং প্রসিকিউটরিয়াল অসদাচরণ সম্পর্কে সচেতন করতে চেয়েছিলাম। একই সঙ্গে আমরা তাঁকে অনুরোধ করতে চেয়েছিলাম যাতে তিনি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং নিশ্চিত করেন তদন্ত ও পরবর্তী কার্যক্রমগুলো কোনো পক্ষপাত ছাড়াই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।’

পরিবারের সদস্যদের দাবি, ১০ ডিসেম্বরের কথোপকথনের সেই রেকর্ডিংটি তাঁরা তাজুল ইসলামকে শুনিয়েছিলেন, তবে তাঁকে কোনো কপি দেননি। এরপর সাইমুম রেজাকে ফজলে করিমের মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যদিও তিনি ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে কর্মরত রয়ে যান।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামফাইল ছবি

এ বিষয়ে সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘যে রেকর্ডিংটির কথা বলা হচ্ছে তা যাচাই করার জন্য এবং ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাকে দেওয়া হয়নি। যদি আমাকে দেওয়া হতো, তবে আমি পদক্ষেপ নিতাম। সাক্ষ্যপ্রমাণে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কেবলমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে আমি কোনো প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারতাম না। কোনো প্রমাণই পেশ করা হয়নি। এ ছাড়া আমি প্রসিকিউটরদের নিয়োগদানকারী বা অব্যাহতি দেওয়ার কর্তৃপক্ষও ছিলাম না।’

গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর আবারও ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারকে ফোন করেন সাইমুম রেজা তালুকদার। তিনি বলেন, ‘চিফ প্রসিকিউটর বলছিলেন, আমার কাছে অডিও রেকর্ড আছে, এই আছে, সেই আছে। আমি তো একটু অবাক হচ্ছি। হয়তো ব্লাফও (ধোঁকা) দিয়েছে।’ তখন ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারকে সাইমুম রেজা তালুকদার সতর্ক করে বলেন, যেন তাঁরা তাঁদের ফোনের নিরাপত্তা নিয়ে সাবধানে থাকেন।

ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ডিজিটাল প্রযুক্তি আইন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ সাইমুম রেজা তালুকদার সম্ভবত ভেবেছিলেন যে এসব কথোপকথন সরকারি কোনো নজরদারি সংস্থার মাধ্যমে রেকর্ড করা হয়েছে। ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারই যে তা রেকর্ড করেছে, সেটা তিনি বুঝতে পারেননি। এ ধারণার কারণেই টাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যান তিনি। জোর দেন ফোনের নিরাপত্তার বিষয়টির ওপর।

নতুন সরকার, ট্রাইব্যুনালে পরিবর্তন

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সরকার গঠন করে বিএনপি। এর ৯ দিন পর জামায়াতে ইসলামীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর জায়গায় নিয়োগ দেওয়া হয় বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত আইনজীবী আমিনুল ইসলামকে।

নতুন চিফ প্রসিকিউটর নিয়োগের পরদিন গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারকে আবার কল করেন সাইমুম রেজা তালুকদার। কলে বলেন, ‘আমি আবার এই মামলাতে ইন করব।’

সাইমুম রেজা কলে আরও বলেন, প্রসিকিউটররা শিগগিরই ফাইলগুলো পর্যালোচনা করবেন। ফজলে করিম চৌধুরীর জামিনের পক্ষে তিনি যুক্তি তুলে ধরবেন। প্রধান প্রসিকিউটরকে তাঁর মতো করে বিষয়টা ব্যাখ্যা করবেন। তাঁর পক্ষ থেকে চেষ্টা থাকবে যেন মামলাটা কঠিন না হয়ে যায়। অন্তত ফজলে করিম চৌধুরী যেন জামিন পান।

কথা বলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সাইমুম রেজা তালুকদার আবার ফোন করেন এবং আবারও টাকাপয়সার বিষয়টি তোলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি একটু ফ্র্যাঙ্কলি বলি, আমি জানি না…আমি কি আসলে আপনাদের থেকে কোনো পার্ট পেমেন্ট চাব কি না, না একবারে পরে চাব, কোনটা ওয়াইজ হয়? কোনটা হলে বেটার? কাজ হয়ে যাওয়ার পর হলে বেটার হয় না? আগে রেজাল্ট হোক তারপরে।’

এসব কথা বলার পর আবার টাকার প্রসঙ্গে ফিরে যান সাইমুম রেজা তালুকদার। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো কিছু প্রসিকিউটরদের কানে যাওয়া মানেই হচ্ছে আমার কাজ করার জায়গাটা বন্ধ হয়ে যাওয়া।’

এরপর আগে যে টাকার অঙ্ক বলেছিলেন, সেটি আবার উল্লেখ করেন সাইমুম রেজা তালুকদার। তিনি বলেন, ‘আপনার (স্বজনকে) লাস্ট টাইম আমি বলছিলাম যে মানে যদি কাজ হয়, যদি আলটিমেটলি ওনাকে ছুটায় নিয়া আসা যায়, তো তখন আমি, যদি যায়, তাহলে একটা বেশ ভালো অ্যামাউন্টের কথাই বলেছিলাম, যে আমি ওয়ান ক্রোরের কথা বলেছিলাম।’

কথা বলার একপর্যায়ে আবার অগ্রিম টাকার বিষয়টি তোলেন সাইমুম রেজা। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আর যদি মনে করে যে ইফ দে অ্যাগ্রি, তাহলে কিছু পার্ট পেমেন্ট এখন ইনিশিয়ালি হইতে পারে। …বিডিটি, ইয়েস। আর এখন সবচেয়ে বেস্ট হয় যদি আমাকে একটু একটা অ্যাডভান্সড যদি কিছু একটা থাকে, টেন লাখের মতো যদি অ্যাডভান্স দেওয়া যায়, খুব ভালো হয়—ইন ক্যাশ।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালফাইল ছবি

ট্রাইব্যুনালের নতুন নেতৃত্বে তাঁর প্রভাব বাড়বে বলে উল্লেখ করেন সাইমুম রেজা তালুকদার। ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারকে বলেন, ‘আচ্ছা আরেকটা জিনিস, সেটা হচ্ছে ইনশা আল্লাহ আর কয়দিন পর আমার প্রভাব আরও বাড়বে ট্রাইব্যুনালে, বিকজ বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর বিএনপিপন্থী, দেখি কী করা যায়।’

এর দুই দিন পর অর্থাৎ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সাইমুম রেজা তালুকদার আবারও ফোন করেন এবং ফজলে করিম চৌধুরীর পক্ষে তদবির করবেন বলে তাঁর পরিবারকে প্রতিশ্রুতি দেন।

সাইমুম রেজা তালুকদারের কথা শুনে তখন ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরা কীভাবে টাকা দেবেন, সেটা জানতে চান। তখন সাইমুম রেজা তালুকদার বলেন, ‘ওই তো মানে রেগুলার কোর্টে যখন আসবে, তখন এক ফাঁকে আলাপ হবে। ওই হাইকোর্ট। তাতে সাসপিশন অ্যারাইজ করবে। বুঝাইতে পারছি?’

জানানো হয় আইনমন্ত্রীকে

২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলেই কয়েকটি কথোপকথনের রেকর্ডিং নতুন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের কাছে পাঠায় পরিবার। এর চার দিন আগে ঘুষ দাবির অভিযোগ সম্পর্কে জানাতে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিল পরিবারটি।

এরপর ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের সঙ্গে কথোপকথনের আরেকটি রেকর্ডে সাইমুম রেজা তালুকদার বলেন, মন্ত্রী তাঁকে গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আপনার (স্বজন) সেই অডিও রেকর্ড করে আইনমন্ত্রীকে দিয়ে দিছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনি কি আমাকে একটু হেল্প করতে পারবেন? আইনমন্ত্রী আমাকে এখন মাত্র ফোন করছে, ফোন করে বলতেছে আমাকে পুলিশে দিবে।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ফাইল ছবি

বর্তমান প্রধান প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এ ঘটনার বিষয়ে অবগত নন বলে জানান। সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কিছুই জানি না। আমি কোনো তথ্য পাইনি।’ তিনি আরও বলেন, মন্ত্রী তাঁকে এ বিষয়ে কিছু বলেননি।

প্রধান প্রসিকিউটর বলেন, তাঁর জানামতে সাইমুম রেজা তালুকদার পদত্যাগ করেছেন। কারণ, তিনি শিক্ষকতায় ফিরে যেতে চান।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার সাইমুম রেজা তালুকদার প্রসিকিউটরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

Channel-i-Tv-Live-Motiom

Jui  Banner Campaign
ট্যাগ: ১ কোটি টাকাআইসিটি প্রসিকিউটরপ্রথম আলো
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

ছবি: সংগৃহীত

এক কোটির খবরে তোলপাড়

মার্চ ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছেন মার্কিনিরা: ইউরোপ ও এশিয়ায় বাড়ছে বসতি স্থাপনের হিড়িক

মার্চ ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ কখন শেষ হবে তা আমরা ঠিক করব, ট্রাম্পকে ইরানের কড়া জবাব

মার্চ ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হওয়ার বিষয়ে রিপাবলিকানদের যা বললেন ট্রাম্প

মার্চ ১০, ২০২৬

জাতীয় সংগীত না গাওয়া ইরানের ৫ ফুটবলারকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া

মার্চ ১০, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey January 2026 Bkash Stickey September 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT