চার দশক আগের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল নিউজিল্যান্ড। ১৯৮৪ সালে ওয়ানডে সিরিজে ইংল্যান্ড হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল কিউইদের বিপক্ষে। সেটা ছিল যেকোনো ফরম্যাটে নিউজিল্যান্ডের কাছে ইংল্যান্ডের হোয়াইটওয়াশ হওয়ার প্রথম ঘটনা। দ্বিতীয় নজিরটি তৈরি হল ৪১ বছর পর। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে নিজেদের ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করল স্বাগতিক দল।
ওয়েলিংটনে শনিবার টসে জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। ব্যাটে নেমে ৪০.২ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ২২২ রানের সংগ্রহ পায় ইংল্যান্ড। তাড়ায় নেমে ৪৪.৪ ওভারে ২ উইকেট ও ৩২ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে নোঙর করে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড।
হারের এই ম্যাচে বিব্রতকর এক রেকর্ডও গড়েছে ইংল্যান্ড। সিরিজে তিন ম্যাচ মিলিয়ে ইংল্যান্ডের প্রথম চার ব্যাটার মিলে কেবল ৮৪ রান করেছেন। ছেলেদের ওয়ানডে সিরিজে বা টুর্নামেন্টে (যেখানে অন্তত তিনটি ইনিংসে ব্যাটিং করেছে) কোনো দলের প্রথম চার ব্যাটারের এটাই সর্বনিম্ন রানের রেকর্ড। আগের রেকর্ডটি ছিল ১৯৮৮ এশিয়া কাপে, বাংলাদেশের প্রথম চার ব্যাটার মিলে করেছিলেন ৮৯ রান।
ব্যাটে নেমে শুরু থেকেই ধস নামে ইংলিশ ব্যাটিং লাইনআপে। মাত্র ১১ ওভারের মধ্যেই ৪৪ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে দ্রুত গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে ইংল্যান্ড। টপ অর্ডারে জেমি স্মিথ, বেন ডাকে, জো রুট, হ্যারি ব্রুক এবং জেকব বেথেলের কেউই পেরুতে পারেনি ইংল্যান্ড। এই পাঁচজন মিলে করেন কেবল ৩২ রান।
তবে দলের বিপর্যয়ের মাঝে লড়াই চালিয়ে যান জেমি ওভারটন। ধারাবাহিকভাবে দ্বিতীয় ম্যাচেও দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। ৬২ বল থেকে ৬৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন এই অলরাউন্ডার। এ ছাড়া অধিনায়ক জস বাটলারের ব্যাট থেকে আসে ৩৮ রান ও ব্রাইডন কার্স করেন ৩৬। তাতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ৪১তম ওভারে ২২২ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ডের ইনিংস।
লক্ষ্য নেমে শুরুটা দারুণ করেন নিউজিল্যান্ড। ডেভন কনওয়ের ৩৪ ও রচিন রবীন্দ্রের ৪৬ রানে ওপেনিং জুটিতে আসে ৭৮ রান। তবে দুজন দ্রুত আউট হয়ে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে স্বাগতিকরা।
এরপর দ্রুত উইকেট পড়লেও হাল ধরেন ড্যারিল মিচেল ও স্যান্টনার। শেষ দিকে কিউইরা দ্রুত তিন উইকেট হারালে ম্যাচে খানিক নাটকীয়তা আসে। ২৭ রান দরকার থাকতে নিউজিল্যান্ডের হাতে ছিল কেবল দুই উইকেট। তবে জাক ফোকস ও ব্লেয়ার টিকনার অপরাজিত থেকে ১৪ ও ১৮ রানে ঠাণ্ডা মাথায় ৩২ বল হাতে রেখে দলকে জয় এনে দেন।








