মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবেলায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করেছে সরকার।
শনিবার (৪ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, রোববার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আগে অফিস সময় ছিল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা। সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে শুক্র ও শনিবার।
একইসঙ্গে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংক অফিস চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। তবে গ্রাহক লেনদেনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংক শাখা ও বুথগুলো আগের মতো ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জরুরি সেবা ছাড়া সব ধরনের বিপণিবিতান, অফিস ভবন ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখতে হবে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর রাখতে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেও সরকার আপাতত সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। তবে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর, হাসপাতাল, গণমাধ্যমসহ জরুরি পরিষেবাগুলো এই নতুন সময়সূচির বাইরে থাকবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আংশিক অনলাইন ও আংশিক সশরীর ক্লাস চালুর প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য পরিকল্পনায় সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাসের মধ্যে তিন দিন অনলাইন ও তিন দিন সরাসরি পাঠদান রাখা হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনলাইন ক্লাস বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা কঠিন হওয়ায়।
এদিকে আদালতের সময়সূচি নির্ধারণ করবে সুপ্রিম কোর্ট এবং বেসরকারি শিল্প ও কলকারখানার কর্মঘণ্টা শ্রম আইন অনুযায়ী নির্ধারণ করবে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।







