ইউরোপের শেনজেন অঞ্চলে ভ্রমণ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে নতুন এনট্রি/এক্সিট সিস্টেম (ইইএস)। নতুন এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থেকে আসা স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণকারীদের প্রবেশ ও প্রস্থানের তথ্য সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হবে। ফলে প্রচলিত পাসপোর্টে সিল দেওয়ার প্রথা ধীরে ধীরে উঠে যাবে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) থেকে পুরো শেনজেনজুড়ে এই ডিজিটাল ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে।
সীমান্তে প্রবেশের সময় ভ্রমণকারীদের পাসপোর্ট তথ্যের পাশাপাশি ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও মুখাবয়বের ছবি সংগ্রহ করা হবে। এসব তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে, যা সীমান্ত পর্যবেক্ষণকে আরও নির্ভুল ও কার্যকর করবে। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, এই সিস্টেম চালুর মূল লক্ষ্য তিনটি- ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর অতিরিক্ত অবস্থান (ওভারস্টে) শনাক্ত করা, পরিচয় জালিয়াতি প্রতিরোধ করা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা। বর্তমানে শেনজেন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ভ্রমণকারী ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন অবস্থান করতে পারেন, যা এখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব করে নজরদারি করবে ইইএস।
ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষের মতে, এই উদ্যোগ অভিবাসন ও আশ্রয় কাঠামোর জন্য একটি শক্তিশালী ডিজিটাল ভিত্তি তৈরি করবে। এর ফলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। দীর্ঘদিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শেষে এই সিস্টেম পুরো শেনজেন অঞ্চলে চালু করা হয়েছে। পরীক্ষামূলক সময়েই কয়েক কোটি সীমান্ত পারাপারের তথ্য এতে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং বহু ক্ষেত্রে অনিয়ম শনাক্ত করে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার ফলে ভ্রমণকারীদের জন্যও সুবিধা তৈরি হবে। ডিজিটাল রেকর্ড থাকায় ভিসা ও ভ্রমণ ইতিহাস যাচাই সহজ হবে এবং ভবিষ্যতে স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত গেট (ই-গেট) ব্যবহারের মাধ্যমে সময়ও কম লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শুরুর দিকে কিছু চ্যালেঞ্জও দেখা দিয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি ব্যস্ত বিমানবন্দর ও স্থলসীমান্তে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়ার কারণে প্রতিটি যাত্রীর জন্য অতিরিক্ত সময় লাগছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জনবল প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে এই সাময়িক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। তবে সিস্টেমটি পুরোপুরি স্থিতিশীল হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। সব মিলিয়ে, এনট্রি/এক্সিট সিস্টেম চালুর মাধ্যমে শেনজেন অঞ্চলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন যুগের সূচনা হলো। ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই ডিজিটাল ব্যবস্থা ভবিষ্যতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণকে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকর করে তুলবে।

