নেপালে সহিংস বিক্ষোভের জেরে রাতারাতি সিদ্ধান্তে সামাজিক মাধ্যমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে দেশটির সরকার। বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
দেশটির তথ্য, সম্প্রচার ও যোগাযোগমন্ত্রী পৃথ্বী সুব্বা গুরুং সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে এক জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠক শেষে ঘোষণা দেন, সরকারের আগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জেনারেশন জেড-এর দাবির প্রেক্ষিতে সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তবে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, আগের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারের কোনো অনুশোচনা নেই। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে যেহেতু বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আবার চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী গুরুং বিক্ষোভরত তরুণদের প্রতি আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দিনের সহিংসতার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাদের ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রিসভার ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি বলেন, নিষিদ্ধ প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) নেপালের জাতীয় স্বার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান দেখিয়েছে।
নাপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেড় বছর ধরে বলছিলাম, তাদের নিবন্ধন করতে হবে, দেশের আইন মানতে হবে। কিন্তু তারা সাড়া দেয়নি।
গত সপ্তাহে নেপাল সরকার নতুন আইন অনুসারে নিবন্ধন না করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো বন্ধের নির্দেশ দেয়। সরকার দাবি করে, এসব প্ল্যাটফর্মে ভুয়া আইডি তৈরি করে ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ভুয়া খবর, প্রতারণা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।
নেপাল টেলিকমিউনিকেশনস অথরিটিকে এসব অনিবন্ধিত প্ল্যাটফর্ম নিষ্ক্রিয় করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও কোন কোন প্ল্যাটফর্মে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
স্থানীয় গণমাধ্যমের মতে, নিষিদ্ধ প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে ছিল:
- ফেসবুক
- ইনস্টাগ্রাম
- হোয়াটসঅ্যাপ
- ইউটিউব
- এক্স
- স্ন্যাপচ্যাট
- পিন্টারেস্ট
- চীনের টেনসেন্ট
তবে টিকটক এই তালিকায় ছিল না এবং সেখানেই ভাইরাল হয়েছে বহু ভিডিও, যেখানে সাধারণ নেপালিদের কষ্টের পাশে রাজনীতিবিদের সন্তানদের বিলাসবহুল জীবন তুলে ধরা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালেই হাজারো বিক্ষোভকারী পার্লামেন্ট ভবনের দিকে এগিয়ে গেলে সেখানে কারফিউ জারি করে প্রশাসন। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে জলকামান, লাঠিচার্জ এবং রাবার বুলেট দিয়ে প্রতিরোধ করা হয়।
এই সহিংসতায় জাতিসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র রাবিনা শামদাসানি বলেন, আমরা নেপালে বিক্ষোভকারীদের নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনায় মর্মাহত। দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করছি।
গত জুলাইয়ে সরকার টেলিগ্রাম নিষিদ্ধ করেছিল অর্থ পাচার ও অনলাইন প্রতারণা রোধের অজুহাতে। এর আগে ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞার পর গত আগস্টে টিকটকের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।








