ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ সমর্থিত প্রার্থী আব্দুল কাদেরকে সমর্থন জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বুধবার ৪ সেপ্টেম্বর রাতে দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ সমর্থনের কথা জানানো হয়। পোস্টে আব্দুল কাদেরের অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং আন্দোলনে অংশগ্রহণের বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়।
পোস্টে বলা হয়, লাল বৃত্তে চিহ্নিত এই তরুণ আব্দুল কাদের। মনে আছে আবরার ফাহাদকে? দিল্লির আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় যাকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগ। সেই আবরারের শাহাদাৎবার্ষিকীতে প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দেন কাদের। সেখানে ছাত্রলীগের হামলায় আহত হয়ে ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেলে। পরে পুলিশ তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায় এবং তার নামে দায়ের হয় দুটি মামলা। এরপর টানা ৩২ দিন কারাবন্দি ছিলেন তিনি।
পোস্টে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে কাদেরের জেলজীবন ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। সে সময় তিনি সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষায়ও অংশ নিতে পারেননি।
এনসিপির ফেসবুক পোস্টে কাদেরের রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও ভূমিকার প্রশংসা করে বলা হয়, জেল থেকে মুক্ত হয়ে আবারও ক্যাম্পাসে ফিরে দাঁড়িয়েছেন ফ্যাসিবাদ, গেস্টরুম, গণরুম সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। তার সহপাঠীরা বলছেন আমরা যখন ক্যারিয়ার গড়ার চিন্তায় ক্লাসে ব্যস্ত ছিলাম, তখন কাদের লড়ছিল দেশের গণতন্ত্রের জন্য।
আব্দুল কাদেরের জন্মমাস জানুয়ারি উল্লেখ করে পোস্টে আরও বলা হয়, জানুয়ারি সূর্যোদয়ের সময়। এই তরুণ সেই সময়ের প্রতীক, যিনি ভোরের আলো নিয়ে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে। চব্বিশের জুলাইয়ের ঐতিহাসিক আন্দোলনে কাদেরের অবদান অনস্বীকার্য।
ডাকসু নির্বাচনে কাদেরের প্যানেল ও ব্যালট নম্বর উল্লেখ করে পোস্টে বলা হয়, তিনি ভিপি পদে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ প্যানেল থেকে লড়ছেন। তার ব্যালট নম্বর ২।
পোস্টের শেষাংশে বলা হয়, আব্দুল কাদের শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নয়, সমগ্র দেশের ছাত্রসমাজের জন্য একটি প্রতীক হয়ে উঠেছেন। ছাত্রলীগের ভয়ে যখন অনেকেই নিজেদের লুকিয়ে রাখেন, তখন কাদের সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে লড়েছেন। আশা করি, ঢাবির শিক্ষার্থীরা এবার তার দীর্ঘ আন্দোলনের মূল্যায়ন করবে।








