এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
পর্দা নেমেছে প্রথমবার আয়োজিত জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টুয়েন্টি। ঢাকা মেট্টোকে হারিয়ে প্রথম শিরোপা ঘরে তুলেছে রংপুর বিভাগ। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শিরোপা মঞ্চে ঢাকাকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে রংপুর।
ফাইনালে টসে হেরে আগে ব্যাটে নেমে ১৬.৩ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে কেবল ৬২ রান সংগ্রহ করে মেট্রো। জবাবে ১১.২ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে নোঙর করে রংপুর।
সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ঘরোয়া লিগে ব্যাটারদের দাপটের পাশাপাশি বোলাররাও আলো ছড়িয়েছেন। আট দলের অংশগ্রহণের টুর্নামেন্টে ফাইনালসহ ৩২ ম্যাচ হয়েছে। ৬৪ ইনিংসে দলগুলো রান তুলেছে ৯ হাজারের বেশি। বোলাররা তুলে নিয়েছেন প্রায় সাড়ে চারশো উইকেট।
বাউন্ডারি এসেছে হাজারের বেশি। ৭২৩টি চারের পাশাপাশি ৪১৮টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন ব্যাটাররা। দুটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ৪১ ফিফটি পেয়েছেন তারা। বোলাররা পাঁচ উইকেট নিতে না পারলেও মোট ১০ বার ৪ উইকেট নিয়েছেন। তিন উইকেট নিয়েছেন ৩১ বার।
দলগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে আলো ছড়িয়েছেন অনেকে। ব্যাটে সর্বোচ্চ রান এসেছে ঢাকা মেট্রো অধিনায়ক নাঈম শেখের ব্যাটে। একমাত্র ব্যাটার হিসেবে তিনশোর বেশি রান করেছেন তিনি। বল হাতে সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েছেন রংপুর বিভাগের আলাউদ্দিন বাবু। দেখে নেয়া যাক সেরাদের পরিসংখ্যান।
নাঈম শেখ: ঢাকা মেট্রোর অধিনায়ক ফাইনালসহ ১০ ইনিংসে ব্যাট করেছেন। তিন ফিফটিতে করেছেন ৩১৬ রান। সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ৬৯। ৩৫.১১ গড়ে ১৩৬-এর বেশি স্ট্রাইকরেটে ৩৫ চার ও ১১ ছক্কায় অর্জন।
জিসান আলম: সিলেট বিভাগের ব্যাটার করেছেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। লিগপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে তার দল। ৭ ম্যাচে ২৮১ রান করেছেন। ৪০-এর বেশি গড়ে এবং ১৫৮-এর বেশি স্ট্রাইকরেটে ব্যাটে ছিল দুটি ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরি। জাতীয় দলে এখনও সুযোগ না পাওয়া জিসানের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস ১০০। আসরে সর্বোচ্চ ২২ ছক্কা এসেছে তার ব্যাটে, ছিল ১৭ চারের মার।
নুরুল হাসান সোহান: কোয়ালিফায়ারে বাদ পড়া খুলনা বিভাগের অধিনায়ক তৃতীয় সর্বোচ্চ রান করেছেন। ৯ ইনিংসে ৫৩-এর বেশি গড়ে ১২৬-এর বেশি স্ট্রাইকরেটে ২৬৬ রান করেছেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। একটি ফিফটির ইনিংস খেলেছেন, সর্বোচ্চ ইনিংস ৫২ রানের। ২০ চারের পাশাপাশি ১০ ছক্কা হাঁকিয়েছেন।
হাবিবুর রহমান সোহান: লিগপর্ব থেকে বিদায় নেয়া রাজশাহী বিভাগের হাবিবুর রহমান সোহান ২৫৯ রান করেছেন। একটি ফিফটিতে ৩৭ গড় এবং ১৬০-এর বেশি স্ট্রাইকরেটে ২৬ চারের পাশাপাশি ১৭টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন।
আজিজুল হাকিম তামিম: অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম খুলনার হয়ে খেলেছেন। ২৬-এর বেশি গড়ে ১৩৭ স্ট্রাইকরেটে ৯ ইনিংসে ২৫৯ রান করেছেন। ছিল দুটি ফিফটির ইনিংস। ১৯ চারের পাশাপাশি ১৬ ছক্কা হাঁকান।
দুইশোর বেশি রান করেছেন আরও চার ব্যাটার। ঢাকা মেট্রোর ইমরান উজ্জামান ২৪-এর বেশি গড়ে ১৩৫-এর বেশি স্ট্রাইকরেটে ২২৪ রান করেছেন। ঢাকা বিভাগের আরিফুল ইসলাম ৭ ইনিংসে ২১৩ রান করেছেন। চ্যাম্পিয়ন রংপুরের অধিনায়ক আকবর আলী ৪১-এর বেশি গড়ে ১৫০-এর বেশি স্ট্রাইকরেটে ৮ ইনিংসে ২০৮ রান করেছেন।
দীর্ঘদিন পর মাঠে ফেরা তামিম ইকবাল ৪ ম্যাচ খেলেছেন। দুই ফিফটিতে ৬৩-এর বেশি গড়ে ১৫১ স্ট্রাইকরেটে ১৯০ রান করেছেন, ছিল দুটি ফিফটির ইনিংস।
আলাউদ্দিন বাবু: বল হাতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করেছেন চ্যাম্পিয়ন রংপুরের আলাউদ্দিন বাবু। ৯ ম্যাচে ৩৪ ওভার বল করে ১৮৭ রান খরচায় ৫.৫০ ইকোনমিতে ১৯ উইকেট নিয়েছেন। সেরা বোলিং ৯ রান খরচায় ৪ উইকেট।
আহমেদ শরিফ: চট্টগ্রামের বোলার আহমেদ শরিফ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭ উইকেট নিয়েছেন। ৭.৭৬ ইকোনমিতে ৮ ম্যাচে ২৬ ওভার বল করে ২০২ রান খরচ করেছেন। সেরা বোলিং ২৬ রান খরচায় ৪ উইকেট।
রাকিবুল হাসান: ঢাকা মেট্রোর স্পিনার রাকিবুল হাসান ৬.৪১ ইকোনমিতে ১৫ উইকেট নিয়েছেন। ৩৬.২ ওভার বল করে ২৩৩ খরচ করেছেন। সেরা বোলিং ফিগার ২৬ রান খরচায় ৩ উইকেট।
অ্যালিস আল ইসলাম: ঢাকা মেট্রোর আরেক স্পিনার অ্যালিস ৫.৩২ ইকোনমিতে ১৪ উইকেট নিয়েছেন। ৪০ ওভার বল করে ২১৩ রান খরচ করেছেন। সেরা বোলিং ২২ রান খরচায় ৩ উইকেট।
আবু হায়দার রনি: ঢাকা মেট্রোর আরেক বোলার আবু হায়দার ৬.০৫ ইকোনমিতে ১৩ উইকেট নিয়েছেন। ৩৫ ওভার বল করে ২১২ রান খরচ করেছেন এ পেসার। সেরা বোলিং ফিগার ৭ রান খরচায় ৩ উইকেট।
এছাড়া মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ ১২টি, ফাহাদ হোসেন ১১টি এবং ইবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদ ও শহিদুল ইসলাম ১০টি করে উইকেট নিয়েছেন।







