দিনাজপুরের শেখ ফরিদ কবরস্থানে পিতার কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত অ্যাথলেট ও বিকেএসপির সাবেক উপপরিচালক শামীমা সাত্তার মিমুর মরদেহ। শনিবার (১৪ মার্চ) জোহরের নামাজের পর দিনাজপুর ঈদগাহ আবাসিক এলাকার মাঠে তার জানাজা শেষে দাফন কার্য সম্পন্ন হয়।
শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।
জানাজা ও দাফনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলামসহ অসংখ্য গুণীজন, আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী উপস্থিত ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্বামী, এক ছেলে ও দুই ভাইসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে বাংলাদেশের নারী অ্যাথলেটদের মধ্যে অন্যতম সফল নাম ছিলেন শামীমা সাত্তার মিমু। স্প্রিন্ট, হার্ডলস, হাইজাম্প ও লংজাম্প—সব ইভেন্টেই তিনি সক্রিয় ছিলেন। তবে হাইজাম্পে তাঁর সাফল্য ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। জাতীয় পর্যায়ে এই ইভেন্টে টানা ১৬ বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে অনন্য রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। ১৯৯২ সালে দীর্ঘ খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করে প্রতিযোগিতামূলক অ্যাথলেটিক্স থেকে অবসর নেন মিমু। পরে তিনি বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনে সহকারী ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কোচ হিসেবে কাজ করেন। একই বছর বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) উপপরিচালক হিসেবে যোগ দেন এবং ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর অবসর গ্রহণ করেন।
১৯৭৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে দিনাজপুর জেলা একাদশের হয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তার জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়া জীবন শুরু হয়। এর আগে দিনাজপুরে জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার, ২০০ মিটার, লংজাম্প ও ট্রিপল জাম্পে প্রথম হয়ে তিনি নজর কাড়েন।
প্রসঙ্গত, প্রয়াত শামীমা সাত্তার মিমু বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার খালাতো বোন।








