ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোট গ্রহণ শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায়। তবে ভোট শুরুর আগেই দেশের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন। ভোরের আলো ফোটার পরপরই অনেক ভোটার লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন, যেন সময়মতো ও নির্বিঘ্নে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মোহাম্মদপুর, রামপুরা, মিরপুর, বনশ্রী ও উত্তরার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সকাল হওয়ার আগেই ভোটারদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে কেন্দ্রগুলো। নারী, তরুণ ও বয়স্ক ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ চোখে পড়েছে।
গত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক থাকায় এবারের ভোট ঘিরে মানুষের আগ্রহ ও প্রত্যাশা বেড়েছে। গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচনের পর এই নির্বাচনকে অনেকেই দেখছেন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে। পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধন বিষয়ে গণভোট থাকায় ভোটারদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবার ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে একযোগে ভোট হচ্ছে। মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ব্যালট, বাক্সসহ সব প্রয়োজনীয় উপকরণ আগেই কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ৫১টি রাজনৈতিক দল। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই হাজার ২৯ জন প্রার্থী। এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৮০ জন।
এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও কারাবন্দী ভোটাররা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। এরই মধ্যে কয়েক লাখ ব্যালট দেশে পৌঁছেছে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ ৯ লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। অধিকাংশ কেন্দ্রে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা।
এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভোট প্রদান প্রত্যেক নাগরিকের শুধু অধিকার নয়, দায়িত্বও। সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে সকাল হওয়ার আগেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে জমে উঠেছে মানুষে-মানুষে।








