২০১৩ সালের ভয়াবহ রানা প্লাজা ধস থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া দিনাজপুরের নাসিমা বেগমের জীবনসংগ্রাম শেষ পর্যন্ত থেমে গেল এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় তিনি নিহত হন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) জুমার নামাজের পর দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। একই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি তাজমিরা খাতুন এবং শিশুপুত্র আব্দুর রহমান। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তিনি রাজবাড়ীর কালুখালীতে ভাগনির বাড়িতে যান। ঈদ শেষে গত বুধবার বিকেলে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি তাজমিরা, ভাগনি জামাই আব্দুল আজিজ এবং শিশু আব্দুর রহমান ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নাসিমা বেগম (৪০) দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্যআটরাই গ্রামের বাসিন্দা। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করতেন তিনি। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ আগে মাগরিবের নামাজ আদায়ের জন্য ওজু করতে বাস থেকে নেমে যাওয়ায় ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান আব্দুল আজিজ। পরে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নদী থেকে নাসিমাসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নাসিমার বড় বোন সানোয়ারা জানান, তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে নাসিমা ছিলেন সবার ছোট। প্রায় এক যুগ আগে তার বিয়ে হয়। স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি বাবার বাড়িতেই থাকতেন। জীবিকার প্রয়োজনে আবার ঢাকায় কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি, কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে তার শেষ যাত্রা।
পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সরকারি সহায়তা হিসেবে ২৫ হাজার টাকা এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ২৫ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।
পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে সাভারের রানা প্লাজা ধসে নাসিমা বেগম ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা তিন দিন আটকে ছিলেন। পরে জীবিত উদ্ধার করা হয় তাকে। সেই ঘটনার পর দীর্ঘদিন গ্রামে থাকলেও পরিবারের দায়িত্ব নিতে আবারও কর্মস্থলে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
এদিকে নিহতদের মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার পথে কুষ্টিয়া এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনার কবলেও পড়ে। তবে এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।








