যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান সদস্য ন্যান্সি মেস বলেছেন, ইরানে মার্কিন সেনা মোতায়েনের যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কংগ্রেসের মতামত ও অনুমোদন থাকা উচিত। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরের বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) দেওয়া এক বক্তব্যে মেস বলেন, যুদ্ধসংক্রান্ত একটি গোপন ব্রিফিংয়ে অংশ নেওয়ার পর প্রশাসনের পরিকল্পনা নিয়ে তার উদ্বেগ বেড়েছে। একই দিনে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানায়, পেন্টাগন ইরানে সীমিত স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে খার্গ দ্বীপ ও হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় অভিযান অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেস বলেন, যদি মেরিন ও ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন দিয়ে প্রচলিত স্থল অভিযান চালানো হয়, তাহলে সেটি একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলযুদ্ধ হবে এ বিষয়ে কংগ্রেসের মতামত থাকা উচিত এবং আমাদের ব্রিফ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আমরা মাটিতে সেনা চাই না। এটি অনেকের জন্য একটি সীমারেখা। যদি এমন কিছু করতে হয়, তাহলে কংগ্রেসে এসে প্রয়োজনীয় অনুমোদন নিতে হবে।
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে ইরানে সেনা পাঠানোর পক্ষে মত দেননি, তবে তিনি বলেছেন সব বিকল্প খোলা রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর এক মাসে কিছু সাফল্যের দাবি করলেও, যুদ্ধের চূড়ান্ত লক্ষ্য বা সময়সীমা এখনো স্পষ্ট নয়।
সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘর্ষে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটি এখনো অঞ্চলজুড়ে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে এবং পুনর্গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল আকাশ হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক শক্তি পুরোপুরি ধ্বংস করা বা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা কঠিন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে বলেন, পেন্টাগনের কাজই হলো প্রেসিডেন্টকে বিভিন্ন বিকল্প দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। এটি এই অর্থে নয় যে প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়টি ট্রাম্পের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আওতায় সীমিত ও দ্রুত সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের জন্যও এটি একটি বড় পরীক্ষা হতে পারে। যদিও অনেকে ট্রাম্পকে সমর্থন দিয়েছেন, তার মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন (মাগা) আন্দোলনের প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তিত্ব এই যুদ্ধের সমালোচনা করেছেন।
টেক্সাসের ডালাসে অনুষ্ঠিত কনজারভেটিভ পলিটিকাল অ্যাকশন কনফারেন্স-এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়, যেখানে কিছু বক্তা যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিলেও অনেকে এড়িয়ে যান।
তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য ম্যাট গেটজসরাসরি সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, ইরানে স্থল অভিযান আমাদের দেশকে দরিদ্র ও কম নিরাপদ করে তুলবে। এতে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বাড়বে, আর আমরা যতটা সন্ত্রাসী নির্মূল করব, তার চেয়ে বেশি সৃষ্টি হতে পারে।
অঞ্চলে মার্কিন সেনা বাড়ানো হচ্ছে
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, শনিবার (২৮ মার্চ) ইউএসএস ত্রিপোলি জাহাজে করে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ অতিরিক্ত সেনা সেখানে পৌঁছেছে।
এর আগে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার সদস্যকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
গত সপ্তাহে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, ট্রাম্প আরও ১০ হাজার সেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। বর্তমানে ওই অঞ্চলে সাধারণত প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করে।
এদিকে, পলিটিকোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রিপাবলিকান প্রতিনিধি এলি ক্রেন ও ডেরিক ভ্যান অর্ডেন বলেন, যদি ট্রাম্প স্থল সেনা মোতায়েন করেন, তাহলে যুদ্ধের প্রতি তাদের সমর্থন পরিবর্তিত হতে পারে।
ক্রেন বলেন, আমার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো এটি যেন আরেকটি দীর্ঘমেয়াদি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ হয়ে না দাঁড়ায়।








