নতুন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার নিয়োগ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে পুলিশের প্রশাসনিক অঙ্গনে। বর্তমান কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর অব্যাহতির আবেদনের পর কে আসছেন রাজধানী পুলিশের শীর্ষ পদে—এ নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জ্যেষ্ঠতা, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, গোয়েন্দা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা—এসব বিবেচনায় কয়েকজন অতিরিক্ত কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম আলোচনায় রয়েছে।
পারিবারিক কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। বুধবার দুপুরে তিনি অব্যাহতিপত্রে স্বাক্ষর করে পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠান।
জানা গেছে, আগামী ২১ নভেম্বর শেখ মো. সাজ্জাত আলীর চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই অব্যাহতির আবেদন করায় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।
আলোচনায় যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপি কমিশনার হওয়ার আলোচনায় আছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ, অতিরিক্ত আইজিপি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
এ ছাড়া র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফারুক আহমেদের নাম নতুন ডিএমপি কমিশনার পদে আলোচনায় রয়েছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বড় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক কর্মসূচি ব্যবস্থাপনা এবং নগর নিরাপত্তা জোরদারে সক্ষম নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি ও বড় আয়োজনগুলো সামনে রেখে অভিজ্ঞ ও কৌশলী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।
তবে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পরই জানা যাবে কে হচ্ছেন রাজধানী পুলিশের পরবর্তী কমিশনার। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিজেদের আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের বসানো একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এতে নীতি বাস্তবায়ন সহজ হয় এবং মাঠপর্যায়ে সমন্বয় বাড়ে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের অগ্রাধিকার দ্রুত কার্যকর করা যায়। তবে হঠাৎ বড় ধরনের রদবদল করলে বাহিনীর ভেতরে মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে—এ বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—নতুন সরকারের সামনে রাজনৈতিক কর্মসূচি, সম্ভাব্য আন্দোলন, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও কূটনৈতিক তৎপরতা—সবকিছু মিলিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখা জরুরি। তাই শুধু পদায়ন নয়, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের প্রশ্নটিও এখানে বড় হয়ে উঠছে।


