শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) থেকে দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘এইট ফোরটি’ (৮৪০)! বুধবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর স্টার সিনেপ্লেক্সের এসকেএস টাওয়ার শাখায় হয়ে গেল ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনী!
ছবিটির বিশেষ প্রদর্শনী দেখতে এদিন উপস্থিত ছিলেন দেশের সংস্কৃতি ও বিনোদন জগতের বহু পরিচিত মুখ। যেখানে ‘এইট ফোরটি’ দেখতে এসে সবার আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হন অন্তর্বর্তী সরকারের দুই তরুণ উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম এবং আসিফ মাহমুদ। সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা ফারুকীর আমন্ত্রণে ‘এইট ফোরটি’ দেখতে গিয়ে সংবাদকর্মীদের মুখোমুখি হন তারা।
এদিন ‘এইট ফোরটি’ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এইট ফোরটি’ এর নির্মাতা, শিল্পী ও কলাকুশলীসহ এই শিল্পকর্মটির সাথে যারা সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানাই। ফারুকী ভাইয়ের নির্মিত ‘৪২০’ আমরা আগেই দেখেছি। সেটা সেই ২০০৭ সালের কথা। তখনো হয়তো আমাদের এতো বোঝার বয়স ছিলো না!
নাহিদ বলেন, আমরা সবসময় খুব সহজ কথাটা প্রত্যাশা করি যে, একজন শিল্পী, সাহিত্যিক কিংবা পরিচালক তার কাজ হলো সমাজের বাস্তবতা তুলে ধরা। বিগত দীর্ঘ সময়ে যে আমরা একটা ফ্যাসিবাদী সময় পার করলাম; সেই সময়ে আমাদের শিল্পী সাহিত্যিক বা আমাদের সিনেমায় কতোটুকু সেই সমাজবাস্তবতা উঠে এসেছিলো, সেটা গবেষণারও বিষয়!
নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদী সময়ে আমরা হয়তো অনেক কথা বলতে পারিনি। অনেক কথা হয়তো এখনো রয়ে গেছে। এখন আমাদের সময়, সেই না বলা কথাগুলো প্রকাশ করা। ফারুকী ভাইকে এজন্যও বেশী ধন্যবাদ যে, ৫ আগস্টের পর হয়তো ফ্যাসিবাদী সময় নিয়ে আমরা অনেকেই অনেক কিছু বলবো; কিন্তু ফারুকী ভাই এটি ফ্যাসিবাদের পতনের আগেই নির্মাণ করেছেন! ৫ আগস্ট না ঘটলেও হয়তো সিনেমাটি রিলিজ হতো, বা রিলিজের উদ্যোগ নেয়া হতো। পারতো কি পারতো না সেটা অন্য বিষয়!
এই কথার সূত্র ধরেই এসময় নাহিদ আরো বলেন, ফ্যাসিজম মানুষের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে যায়। মানুষকে কলুষিত করে। মানুষের মনস্তত্বকে পরিবর্তন করে দেয়। আমরা হয়তো রাজনৈতিক একটা লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে এসেছি, সে লড়াই এখনো চলমান। কিন্তু আমরা যদি নতুন সমাজ কিংবা নতুন মানুষ তৈরী করতে চাই; তাহলে মানুষের মনস্তত্ব পরিবর্তন করতে হবে। তার জন্য যে দুটি জিনিস গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো শিক্ষা ও সংস্কৃতি। আর সেটা কেবল সরকারের উদ্যোগেই সম্ভব হয় না। বরং শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে যারা রয়েছেন তাদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে তারাও যেন দেশীয় সংস্কৃতি বিকাশে আরো বেশী উদ্যোগী হন। সেই জায়গা থেকেই ফারুকী ভাইয়ের ‘৮৪০’ এর মতো কাজ করায় আমরা অভিনন্দন জানাই।
বাংলাদেশের টিভি ধারাবাহিকের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ফোর টুয়েন্টি’ (৪২০)। এর মাধ্যমে ফারুকী ছোট পরিসরে বাংলদেশের রাজনীতিকদের উত্থান পতনের স্বরূপ উন্মোচনের চেষ্টা করেন হাস্যরসের মাধ্যমে, এবং তিনি সফল হন।
১৭ বছর আগে চ্যানেল আইয়ের জন্য নির্মিত নাটকটি তৎকালীন সময়ে বেশ সাড়া ফেলে। প্রায় দেড় যুগ পর ফারুকী ফিরছেন ‘৪২০’র স্বাদ নিয়ে! তিনি এটিকে ‘ফোর টুয়েন্টি’র ডাবলআপ বলছেন! যে সিনেমার নাম রেখেছেন ‘৮৪০’! সিনেমার ট্যাগ লাইন ‘দ্য গ্রেট বাংলা ডেমোক্রেসি প্রাইভেট লিমিটেড’!
ছবিয়াল প্রোডাকশনের সাথে নির্মাণ সহযোগিতায় রয়েছে দেশের খ্যাতনামা সিনেমা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। ফারুকীর লেখা ও নির্মাণে ‘৮৪০’ প্রযোজনা করেছেন নুসরাত ইমরোজ তিশা, সহপ্রযোজনা করেছেন ফরিদুর রেজা সাগর।
সিনেমায় মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাসিরউদ্দিন খান। এছাড়াও রয়েছেন ফজলুর রহমান বাবু, নাদের চৌধুরী, মারজুক রাসেল, শাহরিয়ার নাজিম জয়, বিজরী বরকতউল্লাহ, জাকিয়া বারী মম, আশুতোষ সুজনসহ দর্শকপ্রিয় মুখ।








