যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যকে। সাম্প্রতিক এই জটিল প্রেক্ষাপটে অনেক দর্শক অঞ্চলটির ইতিহাস, জোট-রাজনীতি এবং নেপথ্যের গুপ্ত সংঘাতগুলো বোঝার জন্য সিনেমার দ্বারস্থ হচ্ছেন। বাস্তব ঘটনা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত বেশ কিছু চলচ্চিত্র এই জটিল সম্পর্ক ও দ্বন্দ্বকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও ইসরায়েল-ইরান সম্পর্কের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে এসব চলচ্চিত্র দর্শকদের জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে পারে। বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় নির্মিত এসব গল্প শুধু বিনোদনই নয়, বরং অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সংঘাত ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পেছনের নানা স্তরও উন্মোচন করে।
এমন কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র নিয়েই এই তালিকা—
দ্য ইম্পসিবল স্পাই
ইসরায়েলের কিংবদন্তি গুপ্তচর এলি কোহেনকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে দেখানো হয়েছে কীভাবে এক সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ে পৌঁছে যান। তার গুপ্তচরবৃত্তির গল্প মধ্যপ্রাচ্যের গোয়েন্দা যুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরে। একই গল্পের আধুনিক রূপ দেখা যায় নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘দ্য স্পাই’-এও, যেখানে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পটভূমি ও আঞ্চলিক জোটরাজনীতির জটিলতা ফুটে উঠেছে।
দ্য অ্যাঞ্জেল
মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের জামাতা আশরাফ মারওয়ানের রহস্যময় জীবন নিয়ে নির্মিত হয়েছে এই চলচ্চিত্র। ইসরায়েলের জন্য গুপ্তচরবৃত্তি করা এই ব্যক্তি আসলে নায়ক ছিলেন, নাকি দ্বৈত চরিত্রে দুই পক্ষকেই ব্যবহার করছিলেন— এমন প্রশ্নই ঘিরে রেখেছে তার গল্পকে। যুদ্ধের প্রাক্কালে তার ভূমিকা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত গুপ্তচর কাহিনি।
ওয়ান উইশ ফর ইরান, লাভ ইসরায়েল
ইসরায়েলি নির্মাতা জোসেফ শামাশের উদ্যোগে তৈরি সিনেমাটি ইরান ও ইসরায়েলের মানুষের মধ্যে শান্তি ও সংলাপের সেতুবন্ধন গড়ে তোলার চেষ্টা করে। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন অঞ্চলের নানা মানুষের কণ্ঠ একত্র করে ইরানি নাগরিকদের উদ্দেশে শান্তির বার্তা তুলে ধরা হয়েছে এতে। রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও মানবিক সম্পর্ক ও সহমর্মিতার গুরুত্বই এই নির্মাণের মূল সুর।
দ্য পেট্রিয়টস
১৯৯৪ সালের এই ফরাসি চলচ্চিত্রে দেখা যায় প্যারিসের এক তরুণ এরিয়েল ব্রেনারের গল্প, যিনি ধীরে ধীরে মোসাদের একজন অপারেটিভ হয়ে ওঠেন। তার প্রথম বড় মিশনে তাকে ফ্রান্সে ফিরে গিয়ে এক বিজ্ঞানীর কাছ থেকে পারমাণবিক গোপন তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। এই গল্প গোয়েন্দা জগতের নৈতিক দ্বন্দ্ব ও কঠিন বাস্তবতাকে তুলে ধরে।
সেভেন ডেজ ইন এনটেব্বে
বাস্তব ঘটনার ওপর নির্মিত এই থ্রিলার চলচ্চিত্রটি ১৯৭৬ সালের এক সাহসী উদ্ধার অভিযানের গল্প তুলে ধরে। সে সময় তেল আবিব থেকে ছেড়ে যাওয়া এয়ার ফ্রান্সের একটি বিমান ছিনতাই করা হলে উগান্ডার এনটেব্বে বিমানবন্দরে অভিযান চালায় ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সের কমান্ডোরা। দুঃসাহসিক সেই সামরিক অভিযানের নাটকীয় দিকগুলোই উঠে এসেছে এই ছবিতে।
রিতা জাহান ফরুজ
এই প্রামাণ্যচিত্রে ইরানি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি গায়িকা রিতা জাহান ফরুজের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। তার প্রথম ফারসি অ্যালবামের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে ইরানে জন্ম নেওয়া কিন্তু ইসরায়েলে বেড়ে ওঠা একজন শিল্পীর দ্বৈত পরিচয় ও সাংস্কৃতিক সংযোগের গল্প। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেও দুই দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধনের এক বিরল চিত্র তুলে ধরে এই নির্মাণ।
অ্যাটমিক ফালাফেল
ব্যতিক্রমধর্মী এই ‘থ্রিলার-কমেডি’ চলচ্চিত্রে দেখা যায়, গোপন একটি পারমাণবিক স্থাপনার ছায়ায় বসবাস করা এক কিশোরী ফালাফেল বিক্রেতা নোফারের গল্প। ঘটনাক্রমে সে দেশের বড় সামরিক গোপন তথ্যের সন্ধান পেয়ে যায়। ব্যঙ্গাত্মক ও রসাত্মক ভঙ্গিতে এই চলচ্চিত্র দেখায় কীভাবে পারমাণবিক যুদ্ধের আশঙ্কা সীমান্তের দুই পাশের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।ডেকান হেরাল্ড







