এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে শততম টেস্ট খেলার কীর্তি গড়ে ফেললেন মুশফিকুর রহিম। অভিজ্ঞ ব্যাটারের মাইলফলক উদযাপনে নানা আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরুর দিনে বিশেষ সংবর্ধনা দেয়া হয় তাকে। দেশের ক্রিকেটের নতুন এ সংস্কৃতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তার মতে, মুশফিকের এমন অর্জনে তরুণদের অনেকেই মাইলফলকে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখছেন।
মিরপুর টেস্টে আয়ারল্যান্ডকে ২১৭ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ২-০তে সফরকারীদের হোয়াইটওয়াশ করেছে টিম টাইগার্স। শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার দ্বিতীয় টেস্টে জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন শান্ত। জানালেন, ১০০ টেস্ট খেলতে সতীর্থদের স্বপ্ন দেখার বিষয়টি।
‘সত্যি বলতে, আমরা কখনোই এই বিষয়টা নিয়ে আলাপ করি নাই বা ভাবিও নাই যে আমরা ১০০ টেস্ট খেলতে পারি। যে সময়ে মুশফিক ভাই এটা অর্জন করেছেন। তারপর থেকে কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সবাই আমরা এই বিষয়টা নিয়ে কথা বলছি যে, আমিও খেলতে চাই। কেউ হয়তো ১০ টেস্ট খেলতেছে, সে বলতেছে আমিও ১০০ টেস্ট খেলতে চাই। সুতারং এটা একটা ইতিবাচক দিক।’
শান্ত জানালেন, খেলতে চান ১০০ টেস্ট। বললেন, ‘আমার মনে হয় ৩৯-৪০টা টেস্ট হয়েছে, মিরাজের মনে হয় ৫০টার বেশি। অনেকদূর যাওয়া বাকি। এতো লম্বা চিন্তা না করে একটা একটা টেস্ট যদি আমরা খেলতে পারি, পারফর্ম করতে পারি। যদি কপালে থাকে, ভাগ্যে থাকে, ইনশাআল্লাহ একদিন অর্জন করতে পারব।’
মুশফিকের শততম টেস্ট বেশ উপভোগ করেছে টিম টাইগার্স। শান্ত জানালেন, ‘মুশি ভাইয়ের উদযাপনটা তো ভেতরে বাইরে একইরকম সবার সামনে এখন খোলামেলা। আমরা উপভোগ করেছি, পুরা ম্যাচটা খুবই উপভোগ করেছি। মুশি ভাইও অনেক উপভোগ করেছেন। ভালো সময় গেছে।’
‘অনেকে মজা করছিলেন। শুনছিলাম ড্রেসিংরুমে একজন পেসার বলছিল, ‘আমিও ১০০ টেস্ট খেলতে চাই।’ স্বাভাবিকভাকে পেসারের পক্ষে ১০০ টেস্ট খেলা আমাদের মতো দেশে, এটা আসলে মুখ দিয়ে বলাটা অনেক সাহসের ব্যাপার। তবে বলছিল। এরকমও শুনেছি, ১০০ টেস্ট খেলার বিষয়টা পরে চিন্তা করে ১০০ উইকেট যেন আমরা নিতে পারি সেই চিন্তা করি একজন পেসার হিসেবে। এরকম খুনসুটি তো হয়েছে। তবে ভালো সময় গেছে।’
মুশফিকের পাশাপাশি তাইজুল ইসলামও ইতিহাস গড়েছেন। টেস্টে বাংলাদেশের শীর্ষ উইকেটশিকারি বোলারের মুকুট পরেছেন। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ২৫০ উইকেটের মাইলফলকেও পৌঁছেছেন তারকা বাঁহাতি স্পিনার। তবে তাকে নিয়ে আলোচনা খুব বেশি নেই, সংবাদ সম্মেলনে সেই আক্ষেপের কথাও শোনালেন শান্ত।
‘(দুটা মাইলফলক) অনেকবেশি অনুপ্রেরণার। আমার মনে হয় তাইজুল ভাই যেভাবে এতবছর ধরে খেলে আসছেন, বিশেষ করে তার পরিশ্রম নিয়ে কোন প্রশ্ন নাই। সবসময় কঠিন পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। মজার বিষয় হল, নিরবভাবে কাজ করে যান। খুব বেশি ওনাকে হাইলাইট করতে চায় না বা করে না বা করার সুযোগ হয় না। আমরা সবাই মিলে যদি একসাথে এই ক্রিকেটটাকে নিয়ে কথা বলি, খেলোয়াড়দেরকে একটু হাইলাইট করি যারা ভালো করছে, এই জিনিসগুলো নিয়ে যখন কথাবার্তা হবে, তখনই এই টেস্ট ক্রিকেটটা উপরের দিকে যাবে।’
‘প্রথমত আমাদের আগে পারফর্ম করতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে যদি তাইজুল ভাইয়ের কথা বলি, মুশফিক ভাইয়ের কথা বলি, তারা অনেক বড় বড় অনেককিছু অর্জন করছেন, ভবিষ্যতে হয়তো আরও করবেন। এই জিনিসগুলো নিয়ে যতবেশি কথাবার্তা হবে, এগুলো মানুষের মধ্যে ছড়াবে এবং মানুষ এগুলো নিয়ে তখন চিন্তা করা শুরু করবে, ভাবতে শুরু করবে যে আসলে টেস্ট ক্রিকেটের গুরুত্বটা কতটুকু। আশা করব, আমাদের পারফর্ম করার পাশাপাশি আপনারাও এই বিষয়গুলো নিয়ে একটু মানুষের সামনে তুলে ধরবেন যে, আসলে এটার গুরুত্ব কতটুকু।’








