কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এতে আহত হয়েছেন প্রায় ১০ জন শিক্ষক। ঘটনাস্থল থেকে ২৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জেলার অন্যতম সমন্বয়ক ও এনসিপি নেত্রী জিনিয়া শারমিন রিয়া
বুধবার ২০ আগস্ট সকাল ১১ টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়া উপজেলা সদর স্টেশনের ফলিয়াপাড়া রাস্তা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।
চাকরিচ্যুত শিক্ষক আবদুল করিম বলেন, আমরা তিন মাস ধরে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছি। বারবার আলোচনার নামে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কিন্তু সমাধান হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে সড়কে নেমেছি। পুলিশ কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের মারধর করেছে।
কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক আছে। আমরা সেখান থেকে ২৫ জনকে হেফাজতে নিয়েছি। তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতা এসএম সুজা উদ্দিন এক ফেসবুক বার্তায় বলেন, উখিয়া কোনো আলাদা দেশ নয় যে এখানে আন্দোলন করা যাবে না। উখিয়ায় আন্দোলনরত শিক্ষকদের সাথে সংহতি জানাতে গিয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের সংগঠক জিনিয়া শারমিন রিয়া ও তারেকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। অনতিবিলম্বে সম্মানের সাথে তাদের মুক্তি দিতে হবে এবং প্রশাসনকে এর জবাবদিহি করতে হবে।
জাতীয় শিক্ষক ফোরাম এক লিখিত বিবৃতিতে জানায়, শিক্ষকরা শান্তিপূর্ণভাবে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছেন। সেখানে লাঠিচার্জ ও গ্রেপ্তার সরকারের ফ্যাসিস্ট আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং দ্রুত যৌক্তিক সমাধান দাবি করি।”
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইউনিসেফের অর্থায়নে পরিচালিত শিক্ষা প্রকল্পে স্থানীয় শিক্ষকরা কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি প্রকল্পের একাংশ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ১২ শতাধিক শিক্ষক চাকরিচ্যুত হয়েছেন। এরপর থেকে তারা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। সোমবারও কোটবাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করে শিক্ষকেরা প্রায় ১০ ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ রাখেন।
সর্বশেষ উখিয়া-টেকনাফ সড়কে পুলিশ ও শিক্ষকদের মুখোমুখি অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। স্থানীয় , দমনপীড়নের কারণে পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।







