অপরাধ

বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় কীটনাশক খাইয়ে মা-মেয়েকে হত্যা

আটক ব্যক্তির সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের ছবি, বাংলাদেশ. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

আটক ব্যক্তিকে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে একটি অপরাধের ঘটনায়।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

বন্ধুর দেওয়া মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে খুলনার পিংকু মজুমদারের স্ত্রী মাধুরী বিশ্বাসের (৩৬) সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কে জড়ান পটুয়াখালীর বিধান দাস (২৫) নামের এক যুবক। ৪-৫ মাস প্রেমের পর বিয়ের দাবিতে ৭ বছরের কন্যাসন্তান শ্রেষ্ঠাকে নিয়ে খুলনা থেকে পটুয়াখালীতে বিধানের কাছে চলে যান মাধুরী।

সেখান থেকে মা-মেয়েকে লঞ্চযোগে ঢাকায় আনার সময় সুকৌশলে পানির সঙ্গে ঘাস মারার কীটনাশক খাইয়ে তাদের হত্যা করে বিধান।

এ হত্যাকাণ্ডের ১২ দিন পর মঙ্গলবার মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়ার এ্যাঙ্গেল ডক এলাকা থেকে বিধান দাসকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির কোতোয়ালী থানা পুলিশ।

আজ বুধবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন।

তিনি বলেন, পটুয়াখালী জেলার দশমিনার বিধান দাস বাল্কহেডের ইঞ্জিন শ্রমিক। ৪-৫ মাস আগে তার এক বন্ধুর কাছে মাধুরী বিশ্বাসের মোবাইল নম্বর পায় এবং তাকে কল করে। ধীরে ধীরে বিধান ও মাধুরীর মধ্যে সখ্যতা গড়ে এবং সম্পর্ক পরকীয়ায় রুপ নেয়।

এরপর মাধুরী বিধানকে বিয়ের জন্য চাপ দেয় কিন্তু বিধান রাজি হয় না। গত ২৮ নভেম্বর মাধুরী তার সাত বছরের মেয়ে শ্রেষ্ঠাকে নিয়ে খুলনা থেকে বাসযোগে বরিশালে বিধানের সঙ্গে স্থানীয় এক আবাসিক হোটেলে ওঠেন। সারারাত একসঙ্গে থাকার পরদিন সকালে বিধান তার পারিবারিক কাজ নিয়ে ব্যস্ততার কথা বলে পটুয়াখালী চলে যায় এবং মাধুরীকে বলে সে যেন পটুয়াখালী চলে আসে। সেখান থেকে তারা একসঙ্গে ঢাকা যাবে। এরপর থেকে বিধান পরিকল্পনা সাজাতে থাকে কীভাবে মাধুরীকে তার জীবন থেকে সরানো যায়।

লালবাগ বিভাগের ডিসি আরও বলেন, পরে ৪ ডিসেম্বর সকালে দশমিনা বাজারের নলখোলা বন্দরের একটি দোকান থেকে ঘাস মারার কীটনাশক ওষুধ কেনেন বিধান। ওইদিন বিকেলে বিধান, মাধুরী ও তার শিশু কন্যা শ্রেষ্ঠাসহ লঞ্চযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করেন। লঞ্চ ছাড়ার পর খাওয়া দাওয়া শেষে শ্রেষ্ঠা ঘুমানোর পর বিধান মাধুরীকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ বলে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক বিষ মেশানো পানি পান করতে দেয় এবং মাধুরী তা পান করেন। শ্রেষ্ঠা ঘুম থেকে উঠলে একই কীটনাশক তাকে খাওয়ানো হয়।

বাংলাদেশ পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রেস ব্রিফিং, বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় হত্যাকাণ্ডের তদন্ত. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ ওষুধ খাওয়ানোর পর দুজনেই দুবার বমি করেন। পরদিন ৫ ডিসেম্বর সকালে লঞ্চটি সদরঘাট টার্মিনালে পৌঁছালে বিধান মাধুরী ও শ্রেষ্ঠাকে এক জায়গায় বসিয়ে খাবার আনার কথা বলে পালিয়ে যায়।

পরদিন অজ্ঞানতনামা এক ব্যক্তি সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের সামনে মাধুরী ও তার মেয়েকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিকিৎসার জন্য সকাল ৯টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাধুরীকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া তার সাত বছরের কন্যা শিশু সন্তান শ্রেষ্ঠাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়৷

চিকিৎসার সুবিধার্থে শ্রেষ্ঠাকে তার আত্মীয়রা গোপালগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে মেয়েটি ১৪ ডিসেম্বর চিকিৎসারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।

লালবাগ বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন আরও বলেন, এ ঘটনায় ৬ ডিসেম্বর নিহত মাধুরীর বড় ভাই নারায়ন বিশ্বাসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোতোয়ালী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়। মামলা রুজুর পর পুলিশ বিধান দাস নামের একজনকে সন্দেহভাজন ব্যক্তির সন্ধান পায়। এরই প্রেক্ষিতে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে বিধান দাসকে গত ১৭ ডিসেম্বর মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়ার থ্রী এ্যাঙ্গেল ডক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিধান এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দায় স্বীকার করে।

বিষয়:ডিএমপির কোতোয়ালী থানা পুলিশপরকীয়া প্রেমবিধান দাসমাধুরী বিশ্বাসলালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন
প্রতিবেদক

চ্যানেল আই অনলাইন

চ্যানেল আই অনলাইন

আরও →

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…