মাইক, দেনমোহর, গ্রাজুয়েট, ফ্যামিলি ক্রাইসিসসহ একাধিক জনপ্রিয় নাটকের পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। সিনেমা বানিয়েও নাম কামিয়েছেন বেশ। বিশেষ করে তার সিনেমাগুলোর কোনো না কোনো গান হয়ে ওঠে বছরের সেরা!
চলচ্চিত্রের দর্শকরা, বিষয়টিকে রাজের অন্যতম ক্যারিশমা মনে করেন। বর্তমানে নিজের প্রোডাকশক হাউজ ‘সিনেমাওয়ালা’-তে বেশি সময় দিচ্ছেন পরিচালক রাজ। নাটক নিয়ে পড়ে থাকলেও পরিচালকের রাজের মন টানছে রুপালি পর্দায়।
হয়তো শিগগির নতুন সিনেমায় নামবেন তিনি। তবে কেন দীর্ঘ বিরতি? ২০১৯ মার্চে মুক্তি পেয়েছিল রাজ পরিচালিত সিনেমা ‘যদি একদিন’। অভিনয় করেছিলেন তাহসান-শ্রাবন্তী-তাসকিন। সিনেমাটির ‘লক্ষ্মী সোনা’ গানটি ম্যাসিভ হিট হয়। আজও দর্শক শ্রোতার মুখে মুখে বাজে। পরে নতুন সিনেমার প্রি-প্রোডাকশন শুরু করলেও থেমে যায়।
চ্যানেল আই অনলাইনকে জনপ্রিয় এই নির্মাতা বলেন, ‘যদি একদিন’র পরে বেঙ্গল এর প্রযোজনায় আফরান নিশোকে নিয়ে একটি সিনেমা বানানোর কথা ছিল। গল্প নিয়ে কাজ করছিলাম। একাধিক মিটিং করেছি। তখন কোভিড চলে আসে। মনে হয়েছিল কনসার্ট-সিনেমা হলে ভিড় হওয়ার দিন শেষ! বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়েছিল। পরে সুদিন আসে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের। কোভিড কিছুটা কমলেও মনে হচ্ছিল সিনেমা হলে সেভাবে আর মানুষ যাবে না। তাই আর সিনেমা বানাতে চাইনি। কিন্তু সেই চিত্র এখন পাল্টে গেছে। এখন আবার তৈরি হচ্ছি।
সিনেমা থেকে শারীরিক ভাবে দূরে থাকলেও মানসিকভাবে মোটেও দূরে নেই বলে জানালেন রাজ। ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বললেন, কোভিডে সবকিছু থেমে যাওয়ায় উপার্জনের দিকে অনেকটা পিছিয়ে গিয়েছিলাম। গুলশান (নিকেতন) এরিয়াতে একটা অফিস ও অনেকগুলো স্টাফ আছে। সবমিলিয়ে ৫০ জন স্টাফ আমার উপর নির্ভরশীল হয়ে তাদের সংসার চালায়। আমি বসে থাকলে তারাও বসে থাকে। তাদের কথা বিবেচনায় রেখে সবকিছু দেখভাল করতে নাটকে কাজ করতে হয়। এখন আমি নাটক কম বানাই। আমার সহকারীরা বেশি বানায়। তবে আমি আগামীতে সিনেমাটাই বানাতে চাই।
এর আগে জাহিদ হাসান-মৌসুমী-মোশাররফ করিমকে নিয়ে ‘প্রজাপতি’, আরিফিন শুভ-মিমকে নিয়ে ‘তারকাঁটা’, সুপারস্টার শাকিব খান-অপু, ইন্দ্রনীলকে নিয়ে ‘সম্রাট’, তাহসান-শ্রাবন্তীকে ‘যদি একদিন’ বানিয়েছিলেন মোস্তফা কামাল রাজ। তিনি বলেন, প্রতিটি সিনেমা প্রযোজকের সঙ্গে যে চুক্তি থাকতো টাকার অঙ্ক সবসময় ক্রস করতো। নিজের পকেট থেকে অনেক টাকা খরচ করেছি। কারণ সবসময় সিনেমার প্রতি প্যাশন আছে।
যোগ করে মোস্তফা কামাল রাজ বলেন, এখন সিনেমা বানালে হয়তো বেশি টাকা পারিশ্রমিক নেব। কারণ এর পিছনে সময় দিতে হবে কম হলেও ৬মাস। অন্যদিকে, প্রতিমাসে আমার স্টাফ ও অফিস খরচ বড় অঙ্কের টাকা খরচ হয়। তাহলে সিনেমার পিছনে গেলে এদের চালাবো কীভাবে? হয়তো সামনে আমার সিনেমাওয়ালা প্ল্যাটফর্ম থেকে একটা ফিক্সড ইনকাম আসবে সামনে। তখন আমি মনের মত করে সিনেমায় সময় দিতে পারবো।
তিনি বলেন, যেহেতু আমি একজন ফিল্মমেকার সামনে সিনেমা তো বানাবোই। একজন নির্মাতার স্বপ্নের জায়গা সিনেমা। কিন্তু আমাদের এখানে সঠিক প্রতিষ্ঠান নেই বলেই বেশীরভাগ মানুষ নাটক বানিয়ে নির্মাণ অনুশীলন করে। পরে সিনেমা বানায়। নাটকের মানুষরা সিনেমা বানালে অনেকসময় সেই সিনেমাকে নাটক বলে কারণ আমরা টিভিতে যে ফিকশন বানাই-সিনেম্যাটিক ভাবে বানাই। সেই কারণে সিনেমা বানালে বলে নাটকের মত লেগেছে। নাটকে এই ধরনের ফ্রেম আগেই দেখানো হয়ে যায়। এখন ২০২২ সালে এসব বলা ভুল। এখন কনটেন্ট এবং গল্প বলার ধরন আলাদা।
রাজ আরও বলেন, ইন্ডিয়াতে কোভিডের পর সিনেমা আবার ব্যাক করছে ‘পুষ্পা’, ‘আরআরআর’, ‘কেজিএফ-২’ দিয়ে। এসব সিনেমা দেখে মানুষ শিষ বানিয়েছে, উপভোগ করেছে। এটাই হচ্ছে সিনেমা। পারফেক্ট হলের সিনেমা। এখন ‘পরাণ’ ও ‘হাওয়া’ দেখছে। ‘পরাণ’ যে কোনো মানুষকে কানেক্ট করতে পেরেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নায়ক-নায়িকাকে নেগেটিভভাবে দেখানো যাবে কেউ চিন্তা করেনি। এটা পরিচালক রায়হান রাফী দেখিয়েছে। তার ক্রেডিট। এডিট করেছে সীমিত রায় অন্তর। সেও খুব ভালো করেছে। ‘হাওয়া’র ভিউজুয়াল, সাউন্ড দেখে গর্ব লাগে এমন একটি সিনেমা আমাদের দেশে হয়েছে।
তিনি বলেন, সিনেমাগুলো কোনো ফেসবুক গ্রুপ হিট করেনি। করেছে সাধারণ দর্শক। তারা চাইলে যে কোনো সিনেমাই হিট ফ্লপ করতে পারে! ভালো মন্দ মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়লে সেই কাজ হিট ফ্লপ হয়। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি টিকিয়ে রাখতে সব ধরনের সিনেমা লাগবে। সামনে যে সিনেমা বানাবো সেটা ম্যাস পিপলের জন্য বানাবো, হলের জন্য বানাবো। যেটা দেখে মানুষ শিষ দেবে, মেইনস্ট্রিমের সিনেমা বানাবো। যেখানে অ্যাকশন থাকবে। ভরপুর বিনোদন থাকবে। এমন কিছু বানাবো না যেটা দিয়ে পিছিয়ে পড়বো। আগের কয়েকটি সিনেমা বিভিন্ন কারণে অসম্পূর্ণ ছিল। সামনে আর এই ভুল কাজ করা যাবে না।








