নানামাত্রিক শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান। এবার অভিনয় নয়, তিনি প্রথমবারের মতো নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন!
১৮ ফেব্রুয়ারি রাতে তার পরিচালনায় নির্মিত প্রথম কনটেন্ট ‘জ্বীনের বাচ্চা’ মুক্তি পাচ্ছে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি-তে।
অভিনেতা থেকে হঠাৎ নির্মাণে আসার কারণ জানতে চাইলে ইমরান জানান, অভিনয় তাকে তৃপ্তি দিলেও ভেতরে সবসময়ই কাজ করত গল্প বলার এক অদম্য ক্ষুধা। তার ভাষায়, এটি এক ধরনের “স্টোরিটেলিং ক্রেভিং”, যা তাকে ক্যামেরার সামনে থেকে পেছনে নিয়ে এসেছে।
পরিচালক হিসেবে প্রথম কাজ শুরু করার আগে তিনি বহু গল্প নিয়ে ভেবেছেন, অন্যের কাছ থেকেও গল্প শুনেছেন। কিন্তু ‘জ্বীনের বাচ্চা’র গল্প তাকে এমনভাবে নাড়া দেয় যে, সেটিকে ফ্রেমবন্দি না করে শান্তি পাচ্ছিলেন না তিনি!
‘জ্বীনের বাচ্চা’ গল্পের দর্শন প্রসঙ্গে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান বলেন, “এটি মূলত মাতৃত্বের গল্প। আমার বিশ্বাস, এই জগতে হোক বা অন্য কোনো জগতে—মাতৃত্বের ভাষা এক। সেই সার্বজনীন অনুভূতিকেই পর্দায় তুলে ধরতে চেয়েছি।”
তিনি জানান, সমাজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এক ধরনের অদৃশ্য অস্বস্তিকেও এখানে রূপকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। গ্রামীণ জীবনের চেনা আবহ থাকলেও এটি সম্পূর্ণ ফিকশন। গল্পে রয়েছে ম্যাজিক রিয়ালিজমের ছোঁয়া, যা বাস্তব ও অবাস্তবের সীমারেখাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ঝাপসা করে দেয়।
‘জ্বীনের বাচ্চা’র কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন মৌসুমী হামিদ। তার সঙ্গে রয়েছেন সরকার রওনক রিপন, আজাদ আবুল কালাম, অদ্রিজিত মণ্ডল, আনোয়ারুল হক, রবিন খন্দকার। গল্প লিখেছেন স্বাক্ষর কুণ্ডু দীপ, চিত্রনাট্য ও সংলাপ করেছেন রাজীব হোসেন।
ইতোমধ্যে এর ট্রেলার প্রকাশিত হয়েছে। দেখা যায়, মৌসুমী হামিদের চরিত্রটি বাকপ্রতিবন্ধী এবং নিঃসন্তান। এই দুই বাস্তবতাকে ঘিরে তার দাম্পত্য ও পারিবারিক জীবনে তৈরি হয় অশান্তি। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অবহেলা, প্রতিবেশীদের কটূক্তি—সব মিলিয়ে তিনি যেন এক নিঃসঙ্গ লড়াইয়ে অবতীর্ণ।
ট্রেলারের এক পর্যায়ে গ্রামবাংলার প্রচলিত জ্বীন তাড়ানোর কবিরাজি বা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের দৃশ্য উঠে আসে, যা গল্পের রহস্য ও সামাজিক বাস্তবতাকে রূপকের মাধ্যমে প্রকাশ করে। অধিকাংশ সময়জুড়ে সেখানে ফুটে উঠেছে সংকটজর্জর এক নারীর জীবনসংগ্রাম।
মৌসুমী হামিদ বলেন, “এটি শুধুমাত্র মাতৃত্বের গল্প নয়, গভীর বেদনার গল্প। চরিত্রটিতে পেইন ছাড়া কিছু নেই। তবে তার কষ্ট কিছুটা লাঘব হয় তখনই, যখন সে নিজেকে কোনো এক শিশুর মা হিসেবে কল্পনা করে বা অনুভব করে।”
অভিনয়ের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, “কথা না বলে শুধু অভিব্যক্তির মাধ্যমে অভিনয় করা ভীষণ কঠিন। চরিত্রের প্রস্তুতির জন্য নির্মাতা আমাকে টানা তিন দিন সেটে কথা বলতে দেননি। সেই নীরবতার কষ্টই হয়তো চরিত্রে বাস্তব বেদনার ছাপ এনে দিয়েছে।”
নির্মাতা হিসেবেও ইমরানের প্রশংসা করেন মৌসুমী। বলেন, মোস্তাফিজুর নূর ইমরানের মতো নিবেদিত ও সংবেদনশীল পরিচালক খুব কমই দেখা যায়।
চরকি কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘জ্বীনের বাচ্চা’ শুধু রহস্যনির্ভর কনটেন্ট নয়; বরং সামাজিক বাস্তবতা ও অন্তর্গত বেদনার এক মর্মস্পর্শী উপস্থাপন হতে যাচ্ছে।


