রুচিশীল দর্শকদের পছন্দের শীর্ষে থাকা সিনেমা চেইন স্টার সিনেপ্লেক্স। হলিউড সিনেমার জোয়ার ছিল গেল কয়েক বছর আগে। সেই জোয়ারে কিছুটা ভাটা আনে দেশের সিনেমা!
হলিউড সিনেমা দেখার জন্য সিনেমাপ্রেমীরা মুখিয়ে থাকলেও গেল তিন বছর ধরে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের সিনেমা দেখার আগ্রহ দর্শকদের যেন আরও বেশি! ২০২৪ সাল জুড়েও এই চিত্র দেখা গেছে।
বাংলা সিনেমার ক্ষেত্রে ঘটেছে মুক্তির আগে অগ্রিম টিকেট বুকিং, রেকর্ড পরিমাণে ওপেনিং, সর্বোচ্চ শো, টিকিটের জন্য হাহাকার-এই সবকিছুই।
চলতি বছর শেষ হতে বাকি মাত্র চারদিন। এক নজরে দেখে নিন, দেশের সর্বাধুনিক এই সিনে থিয়েটারে বছর জুড়ে কোন ১০ বাংলা সিনেমা বেশি দেখেছেন দর্শক।
স্টার সিনেপ্লেক্সের জৈষ্ঠ্য বিপণন কর্মকর্তা মেজবাহ আহমেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন যে ১০ টি সবচেয়ে বেশি চলেছে সিনেপ্লেক্সে। এরমধ্যে সবার প্রথমে আছে ‘তুফান’। রায়হান রাফী পরিচালিত এই ছবিটি এ বছরের তো বটেই, বিগত কুড়ি বছরের ইতিহাসে একক ছবি হিসেবে সবচেয়ে বেশী আয় করা ছবির তকমাও অর্জন করেছে!
এরপর পর্যায়ক্রমে এ বছরে বেশী দেখা বাংলা ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজকুমার, মোনা-জ্বিন ২, দেয়ালের দেশ, কাজল রেখা, ওমর, দরদ, ৮৪০, প্রিয় মালতী এবং ৩৬-২৪-৩৬।
এদিকে হলিউড, বলিউড ও ঢালিউড মিলিয়ে সবচেয়ে বেশী আয় করা দশ ছবির তালিকাও প্রকাশ করেছে সিনেপ্লেক্স। সেই তালিকায় প্রথমেই আছে শাকিব খান অভিনীত রায়হান রাফীর ‘তুফান’। এরপর আছে ডেডপুল এন্ড উলভারিন, ডানকি, গডজিলা এক্স কং, ক্রু, মোয়ানা ২, ভেনম দ্য লাস্ট ড্যান্স, কুংফু পান্ডা ৪, রাজকুমার ও দরদ।
অর্থ্যাৎ ২০২৪ সালে স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাওয়া দেশি বিদেশি ছবিগুলোর মধ্যে সেরা দশে স্থান পাওয়া চারটি ছবি হলিউডের, তিনটি ছবি বলিউডের এবং বাকি তিনটি ছবি ঢালিউডের! ঢালিউডের তিন ছবির সবগুলোই শাকিব খান অভিনীত!
এ বিষয়ে মেজবাহ আহমেদ বলেন, সিনেপ্লেক্সের এ বছরটা বলার মতো ওতটা ভালো যায়নি। ওভারঅল ‘তুফান’ই একমাত্র সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করেছে। যা সিনেপ্লেক্সের গত ২০ বছরের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়েছে। এমনকি বলিউডের সিনেমাও ফ্লপ গেছে। হলিউড আহামরি চলেনি, যা চলেছে সবই এভারেজ। সবমিলিয়ে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না, এজন্য মানুষ কম সিনেমা দেখেছে।
আগামি দিনে ‘তুফান’-এর মতো সিনেমা দরকার জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, পরিস্থিতি এখন ভালোর দিকে যাচ্ছে। যত ভালো হবে, মানুষ আবার সিনেমা দেখা শুরু করবে। আসলে এখন ‘তুফান’ এর মত সিনেমা দরকার। তাহলে সিনেপ্লেক্স জৌলুশ ফিরে আসবে বলে মনে করি।








