ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পক্ষে খুবই কম আমেরিকার জনগণ। মাত্র এক-চতুর্থাংশ আমেরিকান এ হামলাকে সমর্থন করে।
হামলা শুরুর পরপরই বার্তা সংস্থা রয়টার্স পরিচালিত এক জরিপে বিষয়টি উঠে এসেছে।
জরিপটি শনিবার শুরু হয়ে গতকাল রোববার (১ মার্চ) শেষ হয়। এ সময়ের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তখনো পর্যন্ত মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর ঘোষণা করেননি।
জরিপ অনুযায়ী, প্রতি চারজনের মধ্যে মাত্র একজন (২৫ শতাংশ) মার্কিন-ইসরায়েলি হামলাকে সমর্থন করেছেন। ৪৩ শতাংশ সরাসরি বিরোধিতা করেছেন এবং ২৯ শতাংশ কোনো মন্তব্য করেননি।
রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান
রিপাবলিকানদের মধ্যে সমর্থন তুলনামূলক বেশি হলেও তা খুব জোরালো নয়। ৫৫ শতাংশ এ সামরিক হামলা সমর্থন করেছেন। ১৩ শতাংশ বিরোধিতা করছেন এবং ৩২ শতাংশ কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রায় ৪২ শতাংশ রিপাবলিকান বলেছেন, যদি এই সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনারা নিহত বা আহত হন, তাহলে তারা এই অভিযানের প্রতি সমর্থন কমিয়ে দেবেন।
ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিরোধিতা আরও প্রবল। জরিপে দেখা যায়, ৭৪ শতাংশ এ যুদ্ধের বিরোধিতা করেছে, ৭ শতাংশ মানুষ সমর্থন করেছে, ১৯ শতাংশ মানুষ কোনো মন্তব্য করেনি।
যুদ্ধের খরচ ও জনমত
রোববার তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে ট্রাম্প বলেছিলেন, সম্ভবত আরও প্রাণহানি ঘটতে পারে এবং তিনি তার ভাষায় ‘ন্যায়সঙ্গত মিশন’ অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ট্রাম্প ইরানকে ‘সভ্যতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনাকারী’ রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করেন।
কিন্তু জরিপ বলছে, সাধারণ মার্কিন ভোটাররা এই অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন।
ওয়াশিংটনের ক্যাটো ইনস্টিটিউট-এর সিনিয়র ফেলো ডগ ব্যান্ডো বলেন, মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর খবর যুদ্ধের বাস্তব মূল্য সামনে নিয়ে এসেছে। তিনি মন্তব্য করেন, অধিকাংশ আমেরিকান মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়াতে চান না।
জ্বালানির দাম ও মধ্যবর্তী নির্বাচন
জরিপে আরও দেখা যায়, ৪৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন -যদি যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাস বা তেলের দাম বেড়ে যায়, তাহলে তারা ইরানবিরোধী অভিযান সমর্থনে কম আগ্রহী হবেন। রিপাবলিকানদের মধ্যে এই হার ৩৪ শতাংশ এবং স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ।
এ পরিস্থিতি সামনে রেখে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন (মিডটার্ম) ঘনিয়ে আসায় রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। ট্রাম্প অতীতে ‘এন্ডলেস ওয়ার’ বন্ধ এবং আমেরিকা ফার্স্ট নীতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
সমালোচকদের মতে, বর্তমান সামরিক পদক্ষেপ সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে এবং তার সমর্থকভিত্তি বিশেষ করে ম্যাগা ঘরানার ভোটারদের একাংশকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে।
ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সামরিক পদক্ষেপ সীমিত করার জন্য ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ দ্রুত পাসের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প বলেছিলেন তিনি আমাদের যুদ্ধ থেকে দূরে রাখবেন। এটি তার পছন্দের যুদ্ধ।’
এই প্রস্তাবের ওপর ভোট এই সপ্তাহের শুরুতেই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।







