বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫ ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের পরও পুরস্কার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কবি মোহন রায়হান। তিনি জানিয়েছেন, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় তিনি এই পুরস্কার প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই গ্রহণের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।
রোববার ১ মার্চ বেলা পৌনে ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মোহন রায়হান বলেন, পুরস্কার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে একটি অনভিপ্রেত ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, পুরস্কারের জন্য তিনি কখনও তদবির করেননি; বাংলা একাডেমি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তাকে মনোনীত করেছিল।
তার অভিযোগ, নাম ঘোষণার পর একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার চালায়। এমনকি ২২ জন লেখক-কবি-সাংবাদিকের নামে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে একটি বিবৃতি প্রচার করা হয়, যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেকেই নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন তিনি।
মোহন রায়হান বলেন, পুরস্কার প্রদানের আগের দিন পর্যন্ত সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও শেষ মুহূর্তে ৪১ বছর আগে লেখা একটি কবিতাকে অজুহাত করে তার পুরস্কার স্থগিত করা হয়। বিষয়টি প্রকাশের পর দেশ-বিদেশে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
পরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে আগামী ২ মার্চ তাকে পুরস্কার দেওয়া হবে। জাতীয় কবিতা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে তিনি পুরস্কার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে পুরস্কারের অর্থ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করবেন না জানিয়ে তিনি বলেন, তা সামর্থ্যহীন কবি-লেখক বা সাংস্কৃতিক কর্মীদের কল্যাণে দেওয়ার আহ্বান জানাবেন।
একই সঙ্গে তিনি পুরস্কার প্রদানের নীতিমালা সংস্কারের দাবি তুলে বলেন, ভবিষ্যতে বিতর্ক এড়াতে স্বচ্ছ ও দলনিরপেক্ষ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই পুরস্কার গ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি মর্যাদাপূর্ণ প্রক্রিয়া বজায় রাখার অনুরোধ জানান।

