ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা দিয়েছেন আগামী বছরের ২২ জানুয়ারি অযোধ্যার রামমন্দির উদ্বোধন করবেন। গতকাল মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর এক অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মোদি বলেন, আগামী রামনবমী পালিত হবে অযোধ্যার নতুন রামমন্দিরে।
এদিন দ্বারকার এক রাবণ-দহন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মোদি বলেন, ‘কয়েক দিন পরেই ভগবান রাম আসতে চলেছেন। রামমন্দির প্রতিষ্ঠা আমাদের জয়।’
রামমন্দির প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রামমন্দিরে রামলালার অধিষ্ঠান হতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। ভগবান রামচন্দ্র আসতে চলেছেন। আমরা অত্যন্ত সৌভাগ্যবান যে, রামমন্দির নির্মাণের সাক্ষী থাকতে পারলাম। আগামী রামনবমী পালন করা হবে ওই রামমন্দিরে।’
একই সঙ্গে রামের আদর্শে দেশ গড়ারও ডাক দেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলে শোনা যাচ্ছে, লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে হিন্দু ভোটের মেরুকরণের লক্ষ্যে রামমন্দির যে বিজেপির অন্যতম হাতিয়ার হতে চলেছে, তা আজ ফের এক বার স্পষ্ট করে দিলেন মোদি।
রাজনীতিকদের একটি বড় অংশের মতে, রামমন্দির নির্মাণ ও তার উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে হিন্দুত্বের প্রচারকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপি এবং আরএসএসের, যাতে তার দৌলতে তৃতীয় বার দিল্লির মসনদ দখল সম্ভব হয়। মূলত হিন্দু ভোটের মেরুকরণের মাধ্যমে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে থাকা প্রতিষ্ঠানবিরোধী হাওয়াকে রুখে দেওয়ার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে গেরুয়া শিবির।
ভারতের অযোধ্যায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদের স্থানে এই রামমন্দির তৈরি হয়েছে। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং এর সহযোগী সংগঠনের হিন্দু কর্মীরা উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যাতে ষোড়শ শতাব্দীর বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে। পরে নানা ঘটনা ও আদালতের সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে এই মন্দির তৈরি হয়।








