চলচ্চিত্র ‘মায়ের ডাক’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গুমের শিকারদের পরিবারগুলোর প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গুমের শিকার সদস্যদের পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট ভোগ করছে। অথচ তাদের জীবিকা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য এখনও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি পাঠাবো, যেন এসব পরিবারকে যথাযথ সাহায্য দেওয়া হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য হবে ভবিষ্যতে যেন আর কোনো সন্তানকে তার বাবার হাত ধরে স্কুলে যেতে হয় বলার মতো পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়।
এর আগে গুম তদন্ত কমিশন ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সংঘটিত গুমের ঘটনা নিয়ে ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তার অন্তর্বর্তীকালীন/চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য নিরাপত্তা বাহিনী গুমের ঘটনায় যুক্ত এবং গোপন আটক কেন্দ্রে ভুক্তভোগীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীর মধ্যে ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবির এবং ২২ শতাংশ বিএনপি–এর নেতাকর্মী। তদন্তে ৩৬টি জেলা থেকে ১ হাজার ৮৩৭টি অভিযোগের মধ্যে ১ হাজার ৭৭২টি পর্যালোচনা করা হয়েছে, এবং ৩৪৫ জন এখনও নিখোঁজ।
বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী–এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিশন এই তদন্ত পরিচালনা করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই প্রতিবেদনের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেছে এবং এটিকে গুমের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে বিবেচনা করছে।

