গোপালগঞ্জ ও নড়াইল জেলার মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া মধুমতি নদীর মাঝখানে হঠাৎ জেগে ওঠা বিশাল বালুচর এখন দর্শনার্থীদের কাছে নতুন আকর্ষণ। স্থানীয়রা এর নাম দিয়েছেন ‘মিনি কক্সবাজার’। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভিড় করছেন এই বালুচরে।
সবুজ গাছপালায় ঘেরা গোপালগঞ্জ জেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের মাঠলা খেয়াঘাটের অদূরে, জেলা শহর থেকে প্রায় ২০-২২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত এ বালুচর এখন দু’জেলার মানুষের বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

প্রথমে স্থানীয়রা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বালুচরের সৌন্দর্যের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে পড়ে। এরপর গোপালগঞ্জ, নড়াইলসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভিড় করতে থাকেন এখানে।
জোয়ারের সময় পুরো বালুচর পানির নিচে তলিয়ে যায়। ভাটার সময় ধীরে ধীরে আবার জেগে ওঠে। দূর থেকে তখন মনে হয় নদীর বুক চিরে যেন সাদা বালুর এক সমুদ্রসৈকত তৈরি হয়েছে। অনেকেরই মনে পড়ে যায় দেশের বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত–এর কথা। যদিও এখানে নেই উত্তাল ঢেউ, আছে শান্ত নদীর নীল জল আর বিস্তীর্ণ বালুচর। বিকেলে সূর্যাস্তের সোনালি আলো বালুচরে পড়লে পুরো এলাকা ঝলমল করে ওঠে।
বালির ওপর কেউ হাটছেন, কেউ ফুটবল খেলছেন, কেউবা ছবি তুলছেন। তরুণ-তরুণীদের অনেকে নদীর পানিতে নেমে সাঁতার কাটছেন বা পা ভিজিয়ে উপভোগ করছেন প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ। দর্শনার্থীদের অনেকেই বলছেন, নানা কারণে যারা দূরের কক্সবাজার যেতে পারেন না, তাদের জন্য এটি কাছের একটি বিকল্প বিনোদনকেন্দ্র হতে পারে।
তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা অনেকেই বিকেলের আগেই ফিরে যাচ্ছেন। নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় মাঝনদীতে জেগে ওঠা বালুচরটি এখনও পুরোপুরি নিরাপদ নয় বলে মনে করছেন অনেকে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে এটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মত স্থানীয়দের।
বালুচরে যেতে হলে ট্রলার বা নৌকায় নদী পার হতে হয়। এতে স্থানীয় ট্রলারচালকরা ভালো আয় করছেন। পর্যটকদের আনাগোনায় ইতোমধ্যে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট দোকানপাট। চা, পানীয়, হালকা খাবার ও স্থানীয় পণ্য বিক্রি করে দোকানিরা স্বচ্ছলতার মুখ দেখছেন। দোকানিদের ভাষ্য মতে, দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ায় আগের তুলনায় এখন বেচাকেনা অনেক ভালো।
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়ভাবে একটি স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা নিয়মিত এলাকাটি তদারকি করছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছেন।







