মেক্সিকো- নাম শুনলেই প্রথমে মাথায় আসে হলিউড মুভিতে দেখা ড্রাগ মাফিয়া-গ্যাংস্টার বা অস্ত্রহাতে হেঁটে বেড়ানো মানুষের কথা। কয়েকদিন হল সহিংসতা ঘটছে এক মাফিয়ার প্রাণ হারানো ঘিরে। সেই দেশটিতে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর বসবে। মূল আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকছে আরেক সহ-আয়োজক কানাডা। জেনে নেয়া যাক বিশ্বকাপের ভেন্যু হিসেবে কেমন হবে মেক্সিকো।
১৯৭০ এবং ১৯৮৬ বিশ্বকাপও অনুষ্ঠিত হয়েছিল মেক্সিকোতে। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তৃতীয়বার মেগা টুর্নামেন্ট আয়োজনের কৃতিত্ব অর্জন করবে দেশটি।
টুর্নামেন্টে মোট ১০৪ ম্যাচ হবে, যার মধ্যে মেক্সিকোর তিন স্টেডিয়ামে গ্রুপপর্ব থেকে নকআউট পর্ব পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ম্যাচ হবে। মেক্সিকো সিটির এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে হবে আসরের উদ্বোধন। খেলবে মেক্সিকো ও সাউথ আফ্রিকা। বাকি দুটি স্টেডিয়াম হল- এস্তাদিও মন্তেরে ও এস্তাদিও আকরন।
এস্তাদিও আজতেকার দর্শক ধারণ ক্ষমতা প্রায় ৮৩,০০০। ১৯৬৬ সালে উদ্বোধিত স্টেডিয়ামটি বিশ্বের কয়েকটি স্টেডিয়ামের মধ্যে একটি যারা দুবার বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজন করেছে। এই স্টেডিয়ামে ১৯৭০ সালে পেলের হাত ধরে ব্রাজিল এবং ১৯৮৬তে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা জিতেছে বিশ্বকাপ। ২০২৬এ এখানে উদ্বোধনী ম্যাচসহ ৫টি খেলা হবে, যার মধ্যে রয়েছে রাউন্ড অব ৩২ এবং ১৬এর ম্যাচও। এটি ক্লাব আমেরিকা এবং মেক্সিকো জাতীয় দলের হোম গ্রাউন্ড।
মন্তেরে স্টেডিয়ামের ধারণ ক্ষমতা প্রায় ৫৩,৫০০। ২০১৫ সালে খোলা আধুনিক স্টেডিয়ামটি মেক্সিকান লিগের ক্লাব রায়াদোসের হোম ভেন্যু। এটি পর্বতমালা ঘেরা সুন্দর দৃশ্যের জন্য বিখ্যাত এবং ২০২৬এ ৪টি ম্যাচ আয়োজন করবে, যার মধ্যে একটি রাউন্ড অব ৩২এর। ইতিহাসে এটি মেক্সিকোর সবচেয়ে আধুনিক স্টেডিয়ামগুলোর একটি, যা পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর জন্য প্রশংসিত।
এস্তাদিও আকরনের ধারণ ক্ষমতা প্রায় ৪৮,০০০। ২০১০ সালে উদ্বোধিত স্টেডিয়ামটি চিভাসের হোম গ্রাউন্ড। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের ৪টি ম্যাচ হবে এখানে। স্টেডিয়ামটি ২০১১ প্যান আমেরিকান গেমসের মতো ইভেন্ট আয়োজন করেছে।
সবমিলিয়ে ১৩টি ম্যাচে হবে মেক্সিকোতে। ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি চার মাস। ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে দেশটির সরকার। বিশ্বকাপের তিনটি কেন্দ্র যদিও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো থেকে অনেকদূরে, তবুও কোন ঝুঁকি নিতে চাইছে না প্রশাসন।








