ভোর থেকেই কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের গেটে ভিড় জমাতে শুরু করেন হাজার হাজার মেসি অনুরাগী। চড়া দামে টিকিট কেটেও মাঠে ‘ফুটবলের রাজপুত্র’কে কাছ থেকে দেখার সুযোগ না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন অনেকে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে মুহূর্তের মধ্যে যুবভারতী পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। মেসিও মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন অল্প সময়েই মধ্যেই।
বহুল আকাঙ্ক্ষিত ‘গোট’ সফরের অংশ হিসেবে দেশটির কলকাতা, হায়দরাবাদ, মুম্বাই ও নয়াদিল্লি শহরে ঘুরবেন মেসি। ভারত সফরের প্রথমদিন তিনি পা রেখেছিলেন কলকাতায়। সঙ্গে আছেন ইন্টার মিয়ামি সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি পল।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুসারে যুব ভারতীতে প্রবেশ করে গ্যালারির চারপাশে ঘুরে ‘ল্যাপ অব অনার’ নেয়ার কথা ছিল মেসির। পরে মাঠে আসার কথা ছিল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, বলিউড তারকা শাহরুখ খানেরও। এছাড়া একটি প্রদর্শনী ম্যাচও হওয়ার কথা, যেখানে মেসির অংশ নেয়ার কথা। কিন্তু বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জেরে সবই পণ্ড হয়ে গেছে।

ভারতের গণমাধ্যমে খবর, হোটেল থেকে ভার্চুয়ালি প্রায় ৭০ ফুটের ভাস্কর্য উন্মোচনের পর মেসি যুবভারতীতে প্রবেশ করলেও দর্শকরা তাকে সামনে থেকে দেখতে পাননি। কারণ ভিআইপি, আয়োজক ও কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারণে গ্যালারি থেকে সাধারণ দর্শকদের পক্ষে কিংবদন্তি মেসিকে দেখা সম্ভব হচ্ছিল না। এমনকি স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনেও মেসির পরিষ্কার দৃশ্য না দেখানোয় হতাশা আরো বাড়ে। একপর্যায়ে মেসিও বিরক্ত হয়ে মাঠ থেকে বেরিয়ে যান।
এতে হতাশা ও রাগে ব্যারিকেড ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়েন বিক্ষুব্ধ ভক্ত-সমর্থকরা। অনেকে চেয়ার ভেঙে মাঠে ছুড়তে শুরু করেন। ব্যানারও ছিঁড়ে ফেলেন। একপর্যায়ে পুরো মাঠ চলে যায় ক্ষুব্ধ দর্শকের দখলে। পরিস্থিতি এ সময় পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
গ্যালারিতে হাজির হওয়া অনেক দর্শককে চড়া দামে টিকিট কেটে ঢুকতে হয়েছিল। সর্বনিম্ন ৩৮০০ থেকে সর্বোচ্চ ১১৮০০ রুপি খরচ করেও মেসিকে দেখতে না পেয়ে তারা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। কলকাতা থেকে শনিবারই হায়দরাবাদে যাওয়ার কথা রয়েছে মেসির। সেখান থেকে মুম্বাই হয়ে দিল্লি সফর দিয়ে শেষ হবে ‘দ্য গোট ট্যুর ইন্ডিয়া’।








