ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সব শিরোপা অর্জন করেছেন অনেক আগেই। বাকি ছিল শুধু বিশ্বকাপ। মরুর বুকে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরে সেই স্বপ্নটাও পূরণ করেছেন কাতার বিশ্বকাপে। তিনি কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। আজ বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনা অধিনায়কের ৩৬তম জন্মদিন। ১৯৮৭ সালের এইদিনে আর্জেন্টিনার রোজারিওতে জন্ম সর্বকালের অন্যতম সেরা লিওর।
৪ বছর বয়সে ফুটবলে হাতেখড়ি। ১০ বছর বয়সে শুরু করেন নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের জুনিয়র দলের হয়ে খেলা। ১৩ বছর বয়সে আর্জেন্টিনা ছেড়ে পাড়ি দিয়েছিলেন স্পেনের বার্সেলোনায়।
গ্রোথ হরমোনে সমস্যা থাকার কারণে আর্জেন্টিনা ছেড়ে বার্সেলোনায় যান মেসি। কাতালানদের বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে ফুটবল শিক্ষার পাশাপাশি চলে উচ্চমূল্যের চিকিৎসাও। ২০০৪ সালে ১৭ বছর বয়সে বার্সেলোনার সিনিয়র দলে অভিষেক হয় মহাতারকার। এরপরের গল্পটা সবার জানা।
২৩ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই মেসি জেতেন ৩টি ব্যালন ডি’অর। পরের ১৩ বছরে নিজের ঝুলিতে পুরেছেন আরও ৪টি। সবমিলিয়ে ৭টি ব্যালন ডি’অর জেতেন লিওনেল আন্দ্রেস মেসি কুচিত্তিনি।
২০০৫ সালে বার্সার হয়ে প্রথম লা লিগা জয়ের পরের বছরই জেতেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। তখন মেসির বয়স ১৯। এরপর দেড় দশকে ফুটবলকে দুহাত উজাড় করে দিয়েছেন এ ফরোয়ার্ড। বার্সেলোনার হয়ে জিতেছেন ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ১০টি লিগ শিরোপাসহ অসংখ্য ট্রফি। টানা ১৭ বছর কাতালান ক্লাবটিতে খেলার পর ২০২১ সালে যোগ দিয়েছিলেন লিগ ওয়ানের ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনে (পিএসজি)।
সমালোচকদের মুখে ছাই দিয়ে ২০২১ সালে প্রথমবার দেশের হয়ে জেতেন কোপা আমেরিকা ট্রফি। ২০২২ সালে ইতালিকে হারিয়ে যখন ফিনালিস্সিমা জেতেন, তখন মেসির বয়স ৩৫। একই বছরে রূপকথার জন্ম দেন কাতার বিশ্বকাপে। অধরা ট্রফিটিতে খেয়েছেন চুমু, নিজের নামের পাশে যোগ করেছেন বিশ্বজয়ী! আর আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছেন তৃতীয় বিশ্বকাপ।
১২টি লিগ আর ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে ক্লাব ফুটবলে ইতিহাস গড়েছেন মেসি। বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার হয়ে গোল স্কোরিংয়ের সবগুলো রেকর্ডও তার। এত অর্জনের পর চিরশত্রুরাও মেনে নিয়েছে মেসিই সেরা!
৩৬তম জন্মদিনে টুইটার, ফেসবুকসহ সব মাধ্যমে ট্রেন্ডিং এখন মহাতারকা লিওনেল মেসির জন্মদিন। বিশ্বকাপ জয়ের পর এটিই যে মেসির প্রথম জন্মদিন।








