কিংবদন্তী নির্মাতা, লেখক ও গীতিকার আমজাদ হোসেন নেই চার বছর! ২০১৮ সালের এই দিনে ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এদিকে বাবার অনুপস্থিতির বিষয়টি মৃত্যু দিনে ব্যাখ্যা করেন আমজাদ হোসেনের ছোট ছেলে সোহেল আরমান।
প্রয়াত বাবার উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেন,‘আর কতদূর হেটে গেলে … তোমার দেখা পাবো বলতো বাবা? কতদিন মন ভরে দেখি না তোমাকে। মাঝে মাঝেই তোমাকে দেখতে বড় ইচ্ছে করে, খুব কথা বলতে ইচ্ছে হয়।’
সোহেল আরমান লিখেন,‘তোমার মৃত্যুর আগের কয়েক বছর আমরা শুধুমাত্র পিতা-পুত্র না, খুব ভালো বন্ধুর মত হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ বহুবার তোমার চিকিৎসার প্রয়োজনে তোমার সঙ্গে দেশের বাইরে যাবার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। সেখানে তুমি আর আমি চিকিৎসার ফাঁকে ফাঁকে কত গল্প, কত রকমের খাওয়া দাওয়া, কত ঘোরাফেরা। তোমার সারাজীবনের কত গল্প যে আমি শুনেছি। তোমার গল্পগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই দুঃখ ছিল, সংগ্রাম ছিল, অনন্য শৈল্পিক সৃষ্টির দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, পুড়ে যাওয়া মানুষের ভালোবাসার কথা ছিল, দেশ ভক্তির টান ছিল। অল্প কিছু রঙিন কৈশোরের স্বপ্নের গল্প ও হাসি ছিল। সে এক অজানা আমজাদ হোসেন ছিল। শুধু শেষবার সুস্থ হয়ে ফেরার সময় বেঁচে থাকার আর ইচ্ছে ছিল না তোমার।
স্মৃতিকাতর সোহেল আরমান আরও লিখেন,‘ঢাকা ফিরে এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে গাড়িতে ডাক্তারের নিষেধ জেনেও মনের সুখে সিগারেট ধরালে। আমি কিছু বলতেই তুমি থামিয়ে দিয়ে বললে, আমার আর কিছু ভালো লাগেনারে বাবা। আমি এ জীবন নিয়ে এখন অনেক ক্লান্ত। সেই জামালপুরের ব্রহ্মপুত্র নদীর পাড়ের ছোট্ট শহরের একজন সাধারণ মানুষ আমি আজ এই পর্যন্ত অনেক দূর এসেছি, অনেক কাজ করেছি। অনেক ভালোবাসা পেয়েছি, অনেক পুরষ্কার পেয়েছি, অনেক বোঝা টেনেছি, আমি এবার মুক্তি চাই বাবা। আমাকে আর কিছু বলিস না, এবার আমি আমার মত করে কিছুদিন সময় কাটাতে চাই। দিবি না আমাকে সেই সময়?’
নির্মাতা ও অভিনেতা ছেলে আরও লিখেন,‘এতবড় কিংবদন্তী মানুষ যখন ছোট্ট বালকের মতো আবদাব করে তখন কি আর কিছু বলা যায়? শুধু এতটুকু বলি, বাবা তুমি সাধারণ না, আমার এবং আমাদের অহংকারের।’
ব্রেন স্ট্রোক করে ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে প্রায় ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর মারা যান এই কিংবদন্তী নির্মাতা। আমজাদ হোসেনের পরিচালনায় জনপ্রিয়তা পাওয়া ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বাল্যবন্ধু’, ‘পিতাপুত্র’, ‘এই নিয়ে পৃথিবী’, ‘বাংলার মুখ’, ‘নয়নমনি’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি’, ‘দুই পয়সার আলতা’, ‘সখিনার যুদ্ধ’, ‘ভাত দে’, ‘হীরামতি’, ‘প্রাণের মানুষ’, ‘সুন্দরী বধূ’, ‘কাল সকালে’, ‘গোলাপী এখন ঢাকায়’ ‘গোলাপী এখন বিলেতে’ ইত্যাদি।
১৯৭৮ সালে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং ১৯৮৪ সালে ‘ভাত দে’ চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া নানামাত্রিক কাজের জন্য ১৪ বার জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। একইসাথে বাংলা একাডেমি পুরস্কার সহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।








