ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার ভোর থেকে চালানো এসব হামলায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
বিবিসি ফার্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি ও এর একটি গ্যাস স্টেশন। হামলার পর প্রকাশিত ছবিতে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, শরিফ এলাকার গ্যাস স্টেশনে হামলার পর নিরাপত্তার কারণে আশপাশের এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন টেকনোলজি সেন্টার ভবন ও মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
শুধু তেহরান নয়, ইরানের অন্যান্য শহর থেকেও হামলার খবর এসেছে। বোরোজের্দ, শিরাজ ও কওমে বিস্ফোরণ এবং যুদ্ধবিমানের তৎপরতার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কওমের একটি আবাসিক এলাকাও হামলার শিকার হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রাদেশিক কর্মকর্তারা।
এদিকে, চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সপ্তাহের শুরুতেই অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৩ ডলারের বেশি হয়েছে, আর নর্থ সি ব্রেন্ট ক্রুডও ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন ষষ্ঠ সপ্তাহে গড়িয়েছে। হরমুজ প্রণালি, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।







