সাবেক আফগান সংসদ সদস্য মারিয়াম সোলাইমানখিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি সাম্প্রতিক সীমান্ত হামলাকে “কাপুরুষোচিত ও বর্বর” বলে আখ্যা দেন এবং পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীকে সরাসরি দায়ী করেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা অবাক নই। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও আইএসআই বহু বছর ধরে ভারত ও আফগানিস্তানজুড়ে সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তবে মা, শিশু ও তরুণ ক্রিকেটারদের গণহত্যার শিকার হতে দেখা সত্যিই হৃদয়বিদারক।”
সোলাইমানখিলের এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়, যখন আফগানিস্তানের পাকতিয়া প্রদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রচণ্ড গোলাবর্ষণে তিনজন স্থানীয় ক্রিকেটারসহ আটজন আফগান নাগরিক নিহত ও আটজন আহত হন। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ডুরান্ড লাইনের বরাবর চালানো এই হামলা সীমান্ত শত্রুতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বেসামরিক এলাকায় হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে আফগানদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
নির্বাসিত এই এমপি অভিযোগ করেন, আফগানিস্তান যখন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে, তখন পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব তা হুমকি হিসেবে দেখে। তার মতে, “পাকিস্তানের অর্থনীতি যুদ্ধ ও অস্থিরতার ওপর নির্ভরশীল, তাই তারা আফগানিস্তান ও ভারতের শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক সহ্য করতে পারে না।”
ভারত–আফগানিস্তান সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে সোলাইমানখিল বলেন, “দুই দেশকে রাওয়ালপিন্ডি থেকে ছড়িয়ে পড়া চরমপন্থী মতাদর্শের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ভারতের রাজনৈতিক পরিবর্তন সত্ত্বেও দেশটি সবসময় আফগান জনগণের পাশে থেকেছে এবং অবিচল সমর্থন দেখিয়েছে। আমাদের যৌথ সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে পাকিস্তানের রপ্তানিকৃত চরমপন্থার বিরুদ্ধে জয়ী হতে হবে।”
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে উদ্দেশ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “তোমরা সন্ত্রাসীদের লালন-পালন করে যে আগুন জ্বালিয়েছ, তা একদিন তোমাদের ঘর পুড়িয়ে দেবে।”
তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী বেসামরিক হত্যাকাণ্ড ঢাকতে ‘প্রচারণা ও ট্রোল বাহিনী’ ব্যবহার করছে। “তারা টিটিপি-বিরোধী অভিযানের কথা বললেও এখনো কোনো সদস্যের নাম প্রকাশ করেনি। তাদের হাতে শুধু হত্যা হওয়া আফগান শিশুদের ছবিই রয়েছে,” ।
এছাড়া, তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট বয়কটের আহ্বান জানান। তার ভাষায়, “মানবাধিকারের মূল্য বোঝে এমন কোনো দেশ রক্তঝরানো শাসকের সঙ্গে খেলে না।”
বিশ্ব সম্প্রদায়কে সতর্ক করে তিনি বলেন, “পাকিস্তানের সামরিকতন্ত্র দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ধ্বংসের আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এর আগে, আফগান ক্রিকেট বোর্ড পাকতিকা প্রদেশের উরগুন জেলায় তিন ক্রিকেটারসহ আটজন নিহত ও সাতজন আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে। বোর্ড জানায়, ওই ক্রিকেটাররা একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচ শেষে হামলার শিকার হন। এই ঘটনার পর আফগান ক্রিকেট বোর্ড ঘোষণা করেছে, তারা নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ত্রিদেশীয় টি২০ সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে অংশ নেবে না।








