১৯৭১ সালের আজকের দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে উড়েছিল সোনালি মানচিত্রখচিত পতাকা, যা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। সবুজ জমিনের ওপর লাল বৃত্তের মাঝে সোনালি মানচিত্রখচিত এই পতাকা উত্তোলন করেছিলেন তৎকালীন ডাকসুর আ স ম আবদুর রব।
আজ (২ মার্চ ফেব্রুয়ারি) সোমবার। ১৯৭১ সালের আজকের দিনে পাকিস্তানি শাসকদের অন্যায়, নিপীড়ন ও শোষণের বিরুদ্ধে ঢাকার রাজপথে নেমেছিলেন হাজারো মানুষ। দলমত নির্বিশেষে নাগরিকরা জানান দিয়েছিল; বাঙালি আর মাথা নত করবে না। ছাত্র-জনতার অকুতোভয় মনোবল তখন স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়।
সেখানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন নূরে আলম সিদ্দিকী, আব্দুল কুদ্দুস মাখন, শাহজাহান সিরাজ এবং আ স ম আবদুর রব। পতাকা উত্তোলন কেবল প্রতীকি ছিল না, বরং এটি ছিল “স্বাধীন বাংলাদেশের বিকল্প নেই” এর ঘোষণা। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে এই পতাকাই হয়ে ওঠে সার্বভৌম বাংলাদেশের অমোচনীয় প্রতীক।
প্রথম পতাকার নকশা করেছিলেন শিব নারায়ণ দাস। সবুজের মধ্যেকার লাল বৃত্তে সোনালি মানচিত্র আঁকা ছিল দেশের ভূখণ্ডের প্রতীক। ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি সরকারিভাবে পতাকার বর্তমান রূপ গৃহীত হয়। নকশা করেছিলেন কামরুল হাসান। বর্তমান পতাকার সবুজের মাঝে লাল বৃত্ত স্বাধীনতার রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত নতুন সূর্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
আজকের দিনটি শুধু ইতিহাসের স্মৃতি নয়, বরং বাঙালির আত্মমর্যাদা, সংগ্রাম ও স্বাধীনতার অদম্য চেতনার উদযাপন। প্রতিটি জাতীয় পতাকা উত্তোলন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সেই ছোট্ট কম্পাউন্ড থেকে শুরু করে সার্বভৌম দেশের সূচনা।







