দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের ধর্মস্থালায় অবস্থিত আলোচিত ‘ভগবান মঞ্জুনাথের মন্দির’ নিয়ে অভিযোগকারী মন্দিরের পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়াও তার অভিযোগের ভিত্তিতে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করেছে রাজ্য সরকার।
শনিবার (২৩ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিসিবির প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা ওই ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রভাবশালীরা এখানে ঘুরতে আসা প্রার্থনা করতে আসা কম বয়সী মেয়েদের গণধর্ষণের পর হত্যা করতো।
অভিযোগ পত্রে সেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, অনেক নারীর দেহে ন্যূনতম পোশাক বা অন্তর্বাসটুকু পর্যন্ত ছিল না। যৌন নির্যাতন এবং নৃশংস খুনের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল। হয় শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল বা শরীরে ক্ষতের কারণে রক্তক্ষরণেই তাদের মৃত্যু হয়। যা ভয়াবহ হিংস্রতাকে ইঙ্গিত করে। ছাত্রীসহ ১০০ জনেরও বেশি নারীকে ধর্ষণ, হত্যা এবং কবর দেওয়া হয়েছিল। অনেকে নাবালিকাও ছিল। এমনকি তার অভিযোগের স্বপক্ষে ধর্মস্থল পুলিশের কাছে কংকালের অবশিষ্টাংশের ছবিও দিয়েছেন তিনি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন এসআইটি কর্মকর্তা শনিবার সকালে বলেন, লোকটিকে ‘মিথ্যা অভিযোগের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে’।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাইয়ের প্রথম দিকে মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি পুলিশ অভিযোগ করেছিলেন এবং তার বক্তব্য রেকর্ড করার জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হয়েছিলেন। তার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত তিনি সম্পূর্ণ কালো পোশাক পরে জনসমক্ষে হাজির হয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করা সেই কর্মী দাবি করেন, ১৯৯৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মন্দির কর্তৃপক্ষের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নারকীয় নির্যাতনের শিকার মেয়ে থেকে মধ্য বয়সী নারীদের দেহ তিনি কবর দিয়েছেন, বেশ কিছু পুড়িয়েছেন। তাই তার দাবি, নির্যাতিত ও নিহত নারীর সংখ্যাটা শতাধিক হওয়া স্বাভাবিক। সম্প্রতি কিছু কংকাল খুঁড়ে বেরও করেছেন তিনি।

২০১৪ সাল থেকে ১২ বছর আত্মগোপনে থাকার পর ৪৮ বছর বয়সী এই ব্যক্তি গত ৩ জুলাই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আদালতের নির্দেশে তার পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
অভিযোগে পরিচ্ছন্নতাকর্মী কারও নাম উল্লেখ করেননি। তবে ‘মন্দির প্রশাসন এবং এর কর্মীদের’ দোষারোপ করেছেন তিনি। তবে মন্দিরের প্রধান এই অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
যখন তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন প্রমাণ হিসেবে তার ব্যাগ থেকে একটি মানুষের খুলি বের করে। তিনি বলেন, এটি একটি মৃতদেহের, যা তিনি কবর দিয়েছিলেন এবং সম্প্রতি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করেছেন।
এসআইটি কর্মকর্তা জানান, তিনি যে খুলি এবং কঙ্কালের দেহাবশেষ দেখিয়েছেন। সেগুলো তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী সঠিক মনে হয়নি। অর্থ্যাৎ, তার দাবিগুলো সঠিক নয়।








