এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
আগস্টের প্রথম রবিবার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব বন্ধু দিবস। এই বিশেষ দিনে বন্ধুদের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সরব হয়ে ওঠে। বন্ধু আছে গল্পে, কবিতায়, গানে, আর সবচেয়ে দৃশ্যমানভাবে—সিনেমায়। সিনেমার পর্দায় বন্ধুত্বের মুহূর্তগুলো দেখে অনেকেই স্মরণ করেন নিজেদের বন্ধুবান্ধবকে। বাংলা সিনেমায়ও বারবার উঠে এসেছে এই চিরন্তন সম্পর্ক। বন্ধুত্বকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এমন বেশ কিছু হৃদয়ছোঁয়া সিনেমা। বন্ধু দিবস উপলক্ষে বাছাই করা হলো এমনই ছয়টি উল্লেখযোগ্য বাংলা চলচ্চিত্র, যেগুলোর কেন্দ্রে রয়েছে বন্ধুত্বের মজবুত বন্ধন:
আম কাঁঠালের ছুটি
মোহাম্মদ নূরুজ্জামান পরিচালিত এই সিনেমাটি এক শহুরে শিশুর গ্রামভ্রমণের গল্প। আট বছরের সেই ছেলে গ্রীষ্মের ছুটিতে গ্রামে গিয়ে আবিষ্কার করে এক নতুন জগৎ—যেখানে থাকে নির্ভেজাল বন্ধুত্ব, খেলা আর আনন্দের অনন্য অভিজ্ঞতা। ৭০-৮০ বা ৯০-এর দশকে বেড়ে ওঠা দর্শকদের কাছে এই ছবি এক অনন্য নস্টালজিয়া।
নেটওয়ার্কের বাইরে
মিজানুর রহমান আরিয়ান পরিচালিত এই ওয়েব ফিল্মটি চার বন্ধুর হঠাৎ বেড়িয়ে পড়া এক ভ্রমণের গল্প, যা জড়িয়ে যায় কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনার সঙ্গে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে একসঙ্গে কাটানো সময় ও বন্ধুত্বের টানাপড়েন এখানে উঠে এসেছে অনবদ্যভাবে। শরিফুল রাজ, ইয়াশ রোহান, তাসনিয়া ফারিণসহ একঝাঁক তরুণ তারকারা অভিনয় করেছেন এতে।
জাগো
খিজির হায়াত খানের পরিচালনায় বাংলাদেশের প্রথম ক্রীড়াভিত্তিক চলচ্চিত্র হলেও, এর মূলে রয়েছে দলীয় বন্ধন ও বন্ধুত্বের শক্তি। একটি স্থানীয় ফুটবল দলকে ঘিরে তৈরি হওয়া গল্পে বন্ধুরা একসঙ্গে লড়াই করে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে। অভিনয় করেছেন ফেরদৌস, তারিক আনাম খান, আরেফিন শুভসহ আরও অনেকে।
দারুচিনি দ্বীপ
হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত তৌকির আহমেদের এই চলচ্চিত্রে রয়েছে একদল তরুণ-তরুণীর বন্ধুত্ব, প্রেম আর জীবনের নানা টানাপড়েন। বন্ধুদের একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে শুরু হয় গল্পের মোড়। রিয়াজ, মম, মোশাররফ করিম, ইমনসহ একাধিক তারকা এতে অভিনয় করেন।
ব্যাচেলর
মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর এই আলোচিত ছবিতে দেখা মেলে ঢাকায় বসবাসকারী কিছু অবিবাহিত তরুণের জীবনের গল্প। কাজ, প্রেম, হতাশা, আনন্দ—সব কিছুতেই একে অপরের পাশে দাঁড়ানো এই বন্ধুরা দিন শেষে আড্ডায় মিলিত হয় একসঙ্গে। হুমায়ুন ফরীদি, জয়া আহসান, আহমেদ রুবেল, মারজুক রাসেলসহ অসাধারণ সব শিল্পীদের অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে।
দীপু নাম্বার টু
মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপন্যাস অবলম্বনে মোরশেদুল ইসলাম নির্মাণ করেন এই চলচ্চিত্র, যা হয়ে ওঠে বহু দর্শকের শৈশবের প্রিয় ছবি। দীপু ও তারিক—দুজন বিপরীত স্বভাবের ছেলের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে শত্রুতা থেকে। একসঙ্গে তারা পরাজিত করে এক ভয়ংকর ডাকাতদলকে। দীপুর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন অরুণ সাহা।
এছাড়া বাংলা চলচ্চিত্রে বন্ধুত্ব নিয়ে আরো বহু চলচ্চিত্র আছে। এরমধ্যে দোস্ত দুশমন, বন্ধু আমার, অভিযান, ভাইবন্ধু, নারীর মন, মেঘের কোলে রোদ অন্যতম।








