ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের ভাতিজা ইফতারুল হাসান স্বপনের বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, নারী কেলেংকারি, সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে অশোভন আচরণ, অদৃশ্য ক্ষমতা দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি, তেঁতুলিয়া থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, পল্লী বিদ্যুতের প্রতি খুঁটি থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায়, বিভিন্ন খামারের গরু চুরি ও জেলেদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে স্থানীয়রা।
শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে কয়েক হাজার নারী পুরুষ অংশ নেয়। প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জহিরুল ইসলাম নকীব।
তিনি বলেন, অদৃশ্য শক্তির ভয়ে আজকে পুরো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নির্যাতিত অবহেলিত। কথা বলতে সাহস পায় না। অদৃশ্য শক্তিকে ব্যবহার করে স্বপন চেয়ারম্যান তার এলাকা ও আশপাশে বিভিন্ন চরাঞ্চলে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। তার অত্যাচারের ফলে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।
এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ওই ইউনিয়নে কোনো মেয়ের বয়স ১২-১৩ বছর হলেই চেয়ারম্যানের ভয়ে অভিভাবকরা মেয়েকে বাড়িতে না রেখে আত্মীয়র বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। কেউ কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। বাঘমারা চরের তিন হাজার একর জমি তিনি দখল করে ভোগ করছেন জমির মালিকদের জমির কাছে যেতে দেয়া হয় না। কেউ ঘাস কাটলেও তাকে চাঁদা দিতে হয়। বাংলাবাজারে কোনো বোরাক ঢুকলে ২০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয় স্বপন চেয়ারম্যানকে।
বক্তারা বলেন, জেলেদের মধ্যে বকনা বাছুর বিতরণে জেলেদের না দিয়ে তার পছন্দের বিত্তশালি ৬ জনকেই দেয়া হয়। তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তাকে গালাগাল ও বদলি করে দেয়া হয়। বিভিন্ন উপজেলা থেকে মাছের ট্রাক আসলে বাংলাবাজারের কাছে তার চৌকিদার, দফাদার ও বাহিনী দিয়ে নিজে থেকে মাছগুলো বাঘমারা খেয়া দিয়ে নিয়ে যায়। ভোলাতে ঢুকতে দেয় না।
জহিরুল ইসলাম নকীব বলেন, আমি জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক। আমার ওপরই যদি অত্যাচার চালানো হয় তাহলে সাধারণ মানুষের আবস্থা কী হতে পারে।
অবিলম্বে চেয়ারম্যান স্বপনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সরকারি স্কুল মাঠে বড় ধরনের সমাবেশ করার ঘোষণা দেন তিনি।








