চলতি মৌসুমে মোহাম্মেদ সালাহর দুর্দান্ত ফর্মের পথ ধরে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লিভারপুল। মৌসুমের শেষদিকে এসে প্রতিদানও পেয়েছেন মিশরীয় তারকা। অলরেডদের সঙ্গে নতুন করে দুই বছরের চুক্তি হয়েছে ৩২ বর্ষী ফরোয়ার্ডের। মৌসুমজুড়ে সালাহর দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পেছনে কারিগর ছিলেন কোচ আর্নে স্লট। কোচিংয়ের দায়িত্ব নিয়ে যখন ডাচ কোচ আসেন, তার থেকে সালাহ চেয়ে নেন বিশেষ এক দায়িত্ব, তাতে সাফল্য আসে দলেরও।
এবার লিগে ৩৪ ম্যাচে সালাহ করেছেন ২৮ গোল। সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ১৮টি। গত মৌসুমের তুলনায় নিজেকে আরও দুর্দান্তভাবে ফিরে পেয়েছেন তিনি। স্লট সালাহকে আরও ভালো খেলোয়াড় করে তুলেছেন কিনা? সালাহ হেসে বলেছেন, ‘সংখ্যা তো তাই বলছে। সত্যিই তাই মনে হচ্ছে।’
‘তিনি খুব সোজাসাপ্টা একজন মানুষ। ডাচরা সাধারণত একটু কঠিন প্রকৃতির হয়, কিন্তু তিনি আমাদের জীবন অনেক সহজ করে দিয়েছেন। শুরু থেকেই পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন কে কীভাবে খেলবে। এখন আর আমাকে খুব একটা ডিফেন্ড করতে হয় না। কৌশলে অনেক পার্থক্য এসেছে।’

স্লট লিভারপুলের দায়িত্ব নেয়ার পর সালাহ চেয়েছিলেন ডিফেন্স থেকে বিশ্রাম। সেই চাওয়ায় গুরুত্ব দিয়েছিলেন কোচ। সালাহ বলছেন, ‘‘বলেছিলাম, ‘যদি আমাকে ডিফেন্সে বিশ্রাম দেন, তাহলে আক্রমণে সেরাটা দেব।’ এবং আমি সেটা করতে পেরেছি। তিনি সেটা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং ফলাফলও মিলেছে। প্রিমিয়ার লিগে খেলতে হলে অবশ্যই কিছুটা ডিফেন্স করতে হয়, তবে আমি ঝুঁকি নিতে পারি এবং আক্রমণে পার্থক্য গড়ে দিতে পারি। আমার অ্যাসিস্ট সংখ্যাও সেটা প্রমাণ করে।’’
এদিন টটেনহ্যাম হটস্পারকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করে শিরোপা নিশ্চিত করে উল্লাসে ফেটে পড়া অ্যানফিল্ডে সালাহও গোলের তালিকায় নাম লেখান, এই জয়ে লিভারপুল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পাশে বসে ইংলিশ শীর্ষ লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ক্লাব হয়ে ওঠে।

২০২০ সালে ইয়ূর্গেন ক্লপের অধীনে পাওয়া শিরোপার তুলনায় এবারের সাফল্য আরও বেশি অর্থবহ বলে মনে করেন সালাহ। কোভিড মহামারির সময় ২০২০ সালে লিভারপুল লিগ শিরোপা জিতলেও তখন লকডাউনের কারণে সমর্থকরা অ্যানফিল্ডে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
এ প্রসঙ্গে সালাহ বলেছেন, ‘এটা ১০০ ভাগ আগের চেয়ে ভালো। সাদিও (মানে), ইয়ূর্গেন (ক্লপ), ববি (ফিরমিনো)- তাদের ছাড়াই এটা জয় করায় এই শিরোপা আরও বেশি বিশেষ অনুভব হচ্ছে। আমাদের এখন ভিন্ন এক দল, ভিন্ন ম্যানেজার, তাই আবার এটা করতে পারাটা সত্যিই অসাধারণ।’
‘সমর্থকদের সামনে এই শিরোপা জয় একেবারে অবিশ্বাস্য অনুভূতি। আমি খুব খুশি যে আমরা এটা এখানে জিতেছি। বুধবার আর্সেনাল ও ক্রিস্টাল প্যালেসের ম্যাচ দেখছিলাম, তখনই ভেবেছিলাম, আমি চাই না সেদিনই আমাদের শিরোপা নিশ্চিত হোক। চাইছিলাম এমন একটা অভিজ্ঞতা, যা আমরা আগে কখনও পাইনি।’







