ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে তাদের সুযোগ-সুবিধা বাতিল এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদ পরিবারের পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।
আজ (২ মার্চ ফেব্রুয়ারি) সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী জানান, জুলাইয়ের আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানতে চেয়েছেন এখন পর্যন্ত কী কী উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী।
তিনি আরও জানান, আহত ও শহীদ পরিবারগুলোর কল্যাণে মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরিদপ্তর’ গঠন করা হয়েছে। এই পরিদপ্তরের মাধ্যমে পুনর্বাসন ও সহায়তার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হচ্ছে। যেসব শহীদ পরিবারের সন্তান স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে, তাদের শিক্ষাভাতার আওতায় এনে পড়াশোনায় ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, কোনো শিশুই যেন পিতৃহারা হওয়ার কারণে শিক্ষার বাইরে না থাকে।
মুক্তিযোদ্ধা তালিকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল প্রায় এক লাখ, যা পরবর্তী সময়ে বেড়ে আড়াই লাখে দাঁড়ায়। এর মধ্যে বিপুলসংখ্যক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৬ জন সচিব ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ভাতা বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের মাধ্যমে তালিকা যাচাই-বাছাই চলছে এবং ইতিমধ্যে ৩০০ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যেন সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পান, সে বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে ভুয়া পরিচয়ে নেওয়া আর্থিক সুবিধা পুনরুদ্ধারের উদ্যোগও নেওয়া হবে।







