এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক মো. হযরত আলীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাকৌশল বিভাগের অধ্যাপক।
বৃহস্পতিবার (১ মে) এই সংক্রান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৩-এর ১০ (১০) ও ১০ (৩) ধারা অনুসারে অধ্যাপক আলীকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির পূর্ণকালীন ভাইস-চ্যান্সেলর নিয়োগের আগ পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি নিয়ে কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অনেক শিক্ষার্থী আহত হন।
পরদিন প্রশাসনিক ভবনসহ সব অ্যাকাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় কুয়েটে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে কমিটি করা হয়।
ওই রাতে খানজাহান আলী থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করে প্রশাসন। পরে ২৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় কুয়েটের সব আবাসিক হল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরদিন সকাল ১০টার মধ্যে সব শিক্ষার্থীকে হলত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর আবাসিক হলগুলো খুলে দেওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা গত ১৩ এপ্রিল বিকেল থেকে আন্দোলন জোরালো হয়।
পরদিন ১৪ এপ্রিল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৭জন শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্তের কথা জানায় কর্তৃপক্ষ।
এরপর ১৫ এপ্রিল শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ মাছুদের পদত্যাগের এক দফা দাবির ঘোষণা দেন। ঘোষণার পর আন্দোলনকারীরা কুয়েটের ছাত্রদের ছয়টি হলের তালা ভেঙে হলগুলোয় প্রবেশ করেন।
১৬ এপ্রিল দুপুরে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা।
পরদিন উপাচার্যের পদত্যাগে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়া হয় এবং বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আমরণ অনশনে বসার ঘোষণা দেন।
দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং ৫৮ ঘণ্টার অনশনের পর গত ২৩ এপ্রিল সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ কামালকে অব্যাহতি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।








