ভোলার মনপুরায় দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করে সিরাজ মীর ওরফে কোকড়া সিরাজ (৪৫) স্থানীয় হাসনাইন নামের এক যুবকের উপর কয়েক দফায় হামলা করেছেন। এছাড়াও কোকড়া বাহিনীর অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কোকড়া সিরাজের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ও জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে মনপুরা থানায় সাধারণ ডায়েরি এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে অভিযোগ দিয়েছেন হামলার শিকার হাসনাইন।
অন্যদিকে নিজেকে বিএনপি নেতা দাবি করে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মারধরসহ নানা অপকর্ম চালানোর কারণে কোকড়া বাহিনীর বিরুদ্ধে আরও
কয়েকজন ভুক্তভোগী মনপুরা থানা ও নৌবাহিনীর কাছে পৃথকভাবে অভিযোগ দিয়েছেন।
হামলার শিকার হাসনাইন অভিযোগে উল্লেখ করেন, কোকড়া সিরাজের সাথে তার নানার জমি নিয়ে বিরোধ চলছে৷ এ জমিসংক্রান্ত বিষয় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ইউপি চেয়ারম্যান, ওসিসহ দেনদরবার করে জমির বিরোধ মিটিয়ে দিলেও কোকড়া সিরাজ তা মানেনি। বরং উল্টো হাসনাইনের পরিবারের উপর কয়েক দফায় হামলা করে গুরুতর আহত করে কোকড়া বাহিনী।
জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টায় হাসনাইনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় সিরাজ বাহিনী। এর ভিডিও ফুটেজও রয়েছে। একই মাসের ২৭ তারিখে জনতা বাজার কথা কাটাকাটির জের ধরে তার চাচা সহ দু’জনকে আহত করেন সিরাজ কোকড়া। লাঠি-সোটা, দলবল নিয়ে বাজারের ঘরে আটকে রাখে রাখলে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিলে সেখান থেকে পুলিশ এসে হাসনাইনসহ অন্যান্যদের উদ্ধার করে। এই বিষয়ে অভিযোগ করতে যাওয়ার সময়ও হামলার শিকার হন হাসনাইন ও তার পিতা। তাৎক্ষণিক থানায় ফোন দিলে কর্তব্যরত এসআই মামুন তাদের উদ্ধার করে বাসায় পৌঁছে দেন।
হাসনাইন জানান, আমাদের ওপর কোকড়া সিরাজের একের পর এক হামলা চালায়। অত্যাচারের বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে জানানোর পরে রোগী সুস্থ হলে মীমাংসা করবেন বলে জানিয়েছেন। কিন্তু বিবাদী সিরাজ এসব তোয়াক্কা না করে আমাদের উপর একের পর এক হামলা করে যাচ্ছেন। সিরাজ মীর ও তার দলবল আমাদেরকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছে। স্বেচ্ছায় জমি না দিলে সে আমাদেরকে মেরে ফেলবে বলে সে হুমকি দেয়।
তিনি জানান, সিরাজ মীর চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও তাণ্ডব চালাচ্ছে। গত ৬ আগস্ট জনতা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী নুরুল ইসলাম ঢালীর, মোকামি মাকসুদ চৌকিদারের কাছ থেকে মাছ বিক্রির চালান নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি মাধ্যমে চালান না নিতে পেরে পরের দিন সিরাজ মীরের মাফু মীর দক্ষিণ সাকুচিয়ার নয়াবাজারে সন্ধ্যার পরে মাজেদ চৌকিদারকে আটকে তার কাছে চাঁদা নিয়েছে।

কোকড়া বাহিনীর অত্যাচারের শিকার আরেক ভুক্তভোগী আব্দুল বাকের ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর মনপুরা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
এসব বিষয়ে জানতে কোকড়া বাহিনীর প্রধান সিরাজ মীরকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, জমি দখল, মারধর বা কোন ধরনের অন্যায় করে এখন পার পাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। সিরাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে বা কেউ নতুন করে অভিযোগ করলে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








