আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই আছেন যারা অনেক কিছুতে ভয় পান। কেউ পানিতে নামতে ভয় পান, কেউ অন্ধকারে ভয় পান, কেউ আবার বদ্ধ ঘরে থাকতে ভয় পান। এই সব ভয়েরই আলাদা নাম আছে।
তবে আমাদের মাঝে এমনও অনেকে আছে যারা নিজের ফোন ছাড়া থাকতে ভয় পান। ফোন হাতছাড়া হওয়ার উদ্বেগ, ভয়কে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয় ‘নোমোফোবিয়া’ বা ‘নো-মোবাইল-ফোবিয়া’।
ফোবিয়ার আভিধানিক অর্থ হল ভয়। এমন কোনও জিনিস যা চোখের সামনে দেখলে বা কোনও ঘটনা ঘটলে মনের মধ্যে উদ্বেগ বা ভয় সৃষ্টি হয়। কেউ যেমন জলে নামতে ভয় পান। আবার, কেউ ভয় পান প্রেমে পড়তে। কারও আবার খাবার দেখলে ভয় লাগে।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, এই আসক্তির পিছনে রয়েছে সমাজমাধ্যমের কারসাজি এবং অনলাইন গেম। বড়দের ক্ষেত্রে বিষয়টি অন্যরকম। তাঁদের আবার ফোনের প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাও নোমোফোবিয়ার জন্ম দেয়।
নোমোফোবিয়ার লক্ষণ
১) সর্বক্ষণ ফোনের নোটিফিকেশন চেক করা। কী মেসেজ এল, আদৌ কোনও মেসেজ এল কি না, তাই নিয়ে মনের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়া।
২) যতক্ষণ না হাতে ফোনটি আসছে তত ক্ষণ মনের মধ্যে কী হল, কী হয়ে যাচ্ছে, মনের মধ্যে তা নিয়ে ভয় কাজ করতে থাকে।
৩) ফোনের ব্যাটারি লো সিগন্যাল দেখালে বা বন্ধ হয়ে গেলেই অনেকের প্যানিক অ্যাটাক হয়। কী করবেন ভেবে পান না। অস্থির হয়ে ওঠেন।
৪) সারা ক্ষণ সমাজমাধ্যমে থাকতে না পারার উদ্বেগ বেশি দেখা যায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। সারা ক্ষণ মনের মধ্যে অদ্ভুত এক অস্থিরতা কাজ করতে থাকে।
৫) হাতের কাছে ফোন না থাকার কষ্টে অনেক সময় উইথড্রয়াল সিম্পটমও দেখা যায়। অনিদ্রাজনিত সমস্যা, অবসাদ, খাবারে অনীহা, সারা ক্ষণ খিটখিট করার মতো লক্ষণ দেখা যায়।
যেভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন
১) স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় সম্পর্কে নিজেকেই সচেতন হতে হবে।
২) অবসাদ, উদ্বেগ বাড়তে পারে এমন জিনিস ফোনে না দেখাই ভাল।
৩) সমাজমাধ্যম থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার অভ্যাস করতে হবে।








