তেহরানের আকাশে তখনো ধোঁয়া আর যুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন ভেসে বেড়াচ্ছে। মাত্র দুই মাস আগে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী লড়াই শেষ করেছে ইরান। সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাঙ্কার বাস্টার বোমায় কেঁপে উঠেছিল ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা। ঠিক সেই পটভূমিতে ২৪ আগস্ট রোববার রাজধানীর এক মসজিদ থেকে গর্জে উঠলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
তিনি বলেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র কখনো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাথানত করবে না। আমাদের শত্রুরা চায় ইরানকে পরাধীন করতে, অথচ আমরা তাদের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াব।
খামেনির বক্তব্য শুধু একটি সাধারণ ধর্মীয় ভাষণ নয়। এটি যেন যুদ্ধের পর আবারও জাতিকে একত্রিত করার ডাক। তাঁর অভিযোগ, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে গোপন হামলা চালিয়েছিল ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে, তা ছিল ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে ভিত থেকে ভেঙে দেওয়ার নকশা।
অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, মুদ্রাস্ফীতি আর রাজনৈতিক অস্থিরতায় হাঁসফাঁস করছে ইরান। তবুও খামেনির কণ্ঠে কোনো ভয়ের ছাপ নেই। বরং তাঁর বার্তা স্পষ্ট। আমেরিকা-ইসরায়েল একত্র হয়ে যতই ষড়যন্ত্র করুক, ইরান মাথা নত করবে না। তিনি জাতীয় ঐক্যের যে ডাক দিয়েছেন, সেটি জনগণকে নতুন করে যুদ্ধের মনোবল দেবে।
তবে প্রশ্ন একটাই যখন ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসতে যাচ্ছে, তখন এই গর্জনময় ভাষণ কি আলোচনার টেবিলকে আরও উত্তপ্ত করে তুলবে? না কি এটি কেবল দেশের ভেতরে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখার কৌশল?
খামেনির ডাক ইরানের জন্য একদিকে জাতীয় মর্যাদা রক্ষার প্রতিজ্ঞা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য অশনি সংকেত। ওয়াশিংটন ও তেলআবিব বুঝে গেছে ইরান ভাঙার লড়াই এত সহজ হবে না। আর তেহরানের রাস্তায় প্রতিধ্বনিত হচ্ছে একটাই শ্লোগান “আমরা মাথা নত করব না!
আগামী মঙ্গলবার ইউরোপের তিন দেশ ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে ইরানের। তবে ইউরোপীয় শক্তিগুলো হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, কোনও চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও নিষেধাজ্ঞা ফিরিয়ে আনবে তারা।







