ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তাকে দু’বার মারার চেষ্টা করেছিলেন খামেনি। কিন্তু তার আগে তিনিই খামেনিকে মেরেছেন।
রোববার ১ মার্চ সন্ধ্যায় এবিসি নিউজের এক সাংবাদিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় ট্রাম্প উচ্ছ্বাস নিয়ে একথা বলেন। শনিবার সকালে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন খামেনি।
এ প্রসঙ্গে ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথনের কথা এক্সে লিখেছেন এবিসি নিউজের সাংবাদিক জোনাথন কার্ল। তিনি লেখেন, আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যু নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমাকে একথা বলেছেন যে, তিনি (খামেনি) আমাকে পাওয়ার আগে আমিই তাকে পেয়ে গেছি। তারা দুই বার চেষ্টা করেছিল। আমিই তাকে প্রথমে পেয়ে গেলাম। সংবাদিক কার্ল জানান, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের একটি সূত্র মনে করে, ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন খামেনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সে প্রসঙ্গই টেনেছেন। খামেনির মৃত্যুর পরে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সে খবর জানিয়েছিলেন এবং খামেনিকে ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ মানুষদের একজন বলে উল্লেখ করেছিলেন।
তিনি লেখেন, খামেনির মৃত্যু ইরানের মানুষের জন্য যে কেবল ন্যায়বিচার হল তা-ই নয়। মহান যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ন্যায়বিচার হল। সেইসঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ, যারা খামেনি এবং তার রক্তপিপাসু গ্যাংদের হাতে নিহত হয়েছেন, তারাও ন্যায়বিচার পেলেন। তিনি (খামেনি) আমাদের উচ্চমার্গের অত্যাধুনিক গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা এড়াতে পারেননি। তিনি এবং তার সঙ্গে নিহত অন্যান্য নেতাদের কিছুই করার ছিল না।
২০২৪ সালে ট্রাম্পকে দুই বার হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। জুলাই মাসে পেনসিলভেনিয়ার জনসভায় তার কান ঘেঁষে বেরিয়ে গিয়েছিল গুলি। ওই বছরই সেপ্টেম্বরে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে গল্ফ খেলার সময় ট্রাম্পকে মারতে ঝোপের আড়ালে ওঁত পেতে থাকা আততায়ী ধরা পড়ে। ওই ঘটনায় এক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কয়েক মাস পর আফগানিস্তানের বাসিন্দা ফারহাদ শাকেরির বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে খুনের ছক কষার অভিযোগ আনা হয়। ২০০৮ সালে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগ ছিল, ট্রাম্পকে খুনের ছক কষেছিল ইরানের রেভল্যুউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তবে ইরান সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।







