জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছর ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হচ্ছে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬। সংস্কৃতি ক্ষেত্রে এবার মরণোত্তর এই সম্মাননা পাচ্ছেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী বশির আহমেদ।
গুণী এই শিল্পীর স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্তির খবরে সংগীতাঙ্গনে তৈরি হয়েছে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগময় পোস্ট দিয়েছেন।
নিজের ফেসবুকে বশির আহমেদের পদকপ্রাপ্তির সংবাদ শেয়ার করে কনকচাঁপা লিখেছেন,“ওস্তাদজী, সুরের উত্তরসূরি হিসেবে আপনার এই সম্মান আমার হৃদয়ের গভীরে ছুঁয়ে গেলো।”
তিনি আরো লিখেন,“জানিনা আপনি জানতে পারছেন কি না কিন্তু আপনার এই সম্মানে আমাদের গর্বে বুক ভরে গেছে। আল্লাহ আপনাকে ও ওস্তাদমাকে জান্নাতুল ফেরদৌসের উচ্চ মাকাম দান করুক।”
বশির আহমেদের স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্তির খবরে আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন তার পরিবারও। অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ছেলে সংগীতশিল্পী রাজা বশির বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, “এটা অভাবনীয়। আমার বাবার পদকপ্রাপ্তির খবরে আমরা ভীষণ সম্মানিত। আমি অস্ট্রেলিয়ায় আছি, আমার বোন হুমায়রা বশির ফোন করে সংবাদটি জানিয়েছেন। মনে হচ্ছে এখনই দেশে চলে আসি।”
বাংলা চলচ্চিত্রের গানে অনন্য অবদান রেখে গেছেন বশির আহমেদ। মাধুর্যময় কণ্ঠ ও শাস্ত্রীয় সংগীতে দখলের জন্য তিনি বিশেষভাবে সমাদৃত ছিলেন। উপমহাদেশের কিংবদন্তি শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ওস্তাদ বড়ে গুলাম আলী খানের কাছে তালিম নেওয়া এই শিল্পী চলচ্চিত্রের গানেও অর্জন করেন ব্যাপক জনপ্রিয়তা।
তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে—‘আমাকে পুরাতে যদি এত লাগে ভাল’, ‘যারে যাবি যদি যা’, ‘অনেক সাধের ময়না আমার’ এবং ‘ডেকোনা আমারে তুমি কাছে ডেকো না’।

