কমলাপুরের টার্ফে বাঘিনীদের পায়ের থাবায় যেন বিপর্যস্ত হল সিঙ্গাপুর। একচেটিয়া আধিপত্য দেখিয়ে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে গোল উৎসবে মাতে সাবিনা খাতুনের দল। অতিথিদের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৮-০ গোলের বিশাল জয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ৩-০ গোলে জিতেছিল লাল-সবুজের নারী ফুটবল দলটি।
কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে সোমবার ম্যাচের প্রথম মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে আক্রমণ হানে বাংলাদেশ। সানজিদা আক্তারের ক্রসে বল পান অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। তার থেকে আগের ম্যাচের সেরা তহুরা বল পেলেও বক্সে অতিথি খেলোয়াড়দের ব্লকের শিকার হন।
প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের থেকে মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে নিয়েছিলেন মনিকা চাকমা। তার পাসে তৃতীয় মিনিটে সাবিনা কিক নিলে অতিথি গোলরক্ষক তান লি ঝাঁপিয়ে বল ঠেকান। ফিরতি বলে তহুরার শট উপরের বারে লেগে ফেরে। যদিও অফসাইডের পতাকা উঠেছিল।
পরের মিনিটে তহুরার পাসে বক্সে সাবিনার সামনে আবারো সুযোগ আসে, তার শট ক্রসবারের উপর দিয়ে চলে যায়। একের পর এক আক্রমণে সিঙ্গাপুরকে স্বাগতিকরা চেপে ধরে। ১১ মিনিটে বাঁ-প্রান্ত থেকে বল নিয়ে অনেকটা পথ দৌড়ে যান সাবিনা। তার শটে গোলরক্ষক পরাস্ত হলেও পোস্ট ঘেঁষে বল চলে যায়।
তিন মিনিট পর বক্সের ভেতর তহুরাকে ঠিকঠাকভাবে বল দিতে পারেননি সাবিনা। তাতে গোলের সহজ সুযোগ হাতছাড়া হয়। এসময় পাল্টা আক্রমণে যায় সিঙ্গাপুর। সাইজওয়ানির কিক প্রতিহত করেন টাইগ্রেস গোলরক্ষক রূপনা চাকমা।
ম্যাচের ১৬ মিনিটে মেলে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা। বক্সের বাইরে থেকে সাবিনার কিকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ব্যাক ভলি করেন আফিদা খন্দকার। ডিফেন্ডার মাসুরা পারভিনের হেডে পাওয়া বলে মাথা ছুঁইয়ে বাঘিনীদের লিড পাইয়ে দেন আগের ম্যাচে জোড়া গোল করা তহুরা।
ব্যবধান দ্বিগুণ করতে বাংলাদেশ সময় নেয় মাত্র দুই মিনিট। সাবিনা কর্নার কিকে সিঙ্গাপুরের খেলোয়াড়রা বল ক্লিয়ার করতে পারেননি। বাঁ-পায়ের আলতো টোকায় লক্ষ্যভেদ করেন ঋতুপর্ণা চাকমা।
ম্যাচের ২৩ মিনিটে ঋতুপর্ণা আবারো গোলের সুযোগ পান। সহ-অধিনায়ক মারিয়া মান্দার লং পাসে বল পেয়ে বাঁ-প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে শট নেন। প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক তান লি বল ধরে ফেলেন।
সানজিদার পাসে বল পেয়ে তহুরা লক্ষ্যভেদ করতে না পারলেও তাকে বেশিক্ষণ অপেক্ষায় থাকতে হয়নি। ২৪ মিনিটে ঋতুপর্ণার শট তান লির প্রতিহত করেন। ফিরতি শটে জোড়া গোলের দেখা পান তহুরা।
মিনিট পাঁচেক পর তহুরা হ্যাটট্রিকের আশা জাগিয়েছিলেন। বাঁ-পায়ের শট উপর দিয়ে যায়। পরে ৪২ মিনিটের মাথায় তিনি ডান পায়ের দূরপাল্লার শট নিলেও বল ক্রসবারের সামান্য উপর দিয়ে যায়।
বিরতির পর ৫০ মিনিটে সাবিনা ডি বক্সে ঢুকে সামনে এগিয়ে যাওয়া তহুরাকে পাস দিতে না পারায় সেযাত্রায় গোল আসেনি। খানিকপর সানজিদা বল জালে জড়ালে অফসাইডে গোল বাতিল হয়। ৫৪ মিনিটে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের ফুটবলার তান লি এরনের সঙ্গে সংঘর্ষে ডান পায়ে আঘাত পান রূপনা। খেলা সাময়িক বন্ধ থাকে।
গোটা ম্যাচে ডানপ্রান্ত দিয়ে বারবার আক্রমণ গড়ে যাওয়া সানজিদা ৫৭ মিনিটে গোল পান। বাঁ-প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠা ঋতুপর্ণার পাসে বল নিয়ে গোলমুখে শট নেন তহুরা। গোলরক্ষক সেটি প্রতিহত করলেও ফিরতি বলে নিশানাভেদ করেন সানজিদা।
সাবিনার শট ৬১ মিনিটে অতিথি গোলরক্ষক ঝাঁপিয়ে ধরেন। তবে টিম টাইগ্রেসের পঞ্চম গোলের অপেক্ষা বিলম্ব হয়নি। বাঁ-পায়ের উঁচু শটে একক প্রচেষ্টায় ৬২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান ঋতুপর্ণা।
ম্যাচের ৬৪ মিনিটে বক্সের ভেতর সাবিনার বাড়ানো বল দৌড়ে নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি তহুরা, আবারো মিস করেন হ্যাটট্রিকের সুযোগ। কিছুপর তহুরা বল জালে জড়িয়ে হ্যাটট্রিকের উদযাপন করলেও পরে হতাশ হন। গোলটি অফসাইডে বাতিল হয়। দুই মিনিট পর মারিয়া ৭২ মিনিটে একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে দুর্বল শট নেয়ায় গোলরক্ষক বল ধরে ফেলেন।
খেলার ৭৪ মিনিটে তহুরার জায়গায় খেলতে নামেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। সানজিদার পরিবর্তে মাঠে আসেন মাতসুশিমা সুমাইয়া। জোড়া বদলির কিছুপরই সুমাইয়ার থেকে বল পান শামসুন্নাহার জুনিয়র। তার পাসে ডান পায়ের উঁচু শটে গোল করেন সাবিনা।
পরে ৮০ মিনিটে টাইগ্রেস কোচ সাইফুল বারী টিটু আবারো আনেন জোড়া বদল। শামসুন্নাহার সিনিয়রের জায়গায় আসেন নিলুফা ইয়াসমিন নীলা। মারিয়ার স্থলে মাঠে নামেন স্বপ্না রানি।
ম্যাচের ৮১ মিনিটে গোলমুখে সাবিনা বল পেলেও শেষ মুহূর্তে শট নিতে পারেননি। সামনে এগিয়ে তান লি বল লুফে নেন। গোলরক্ষক রূপনাকে বেঞ্চে বসিয়ে ৮৩ মিনিটে পোস্টের সামনে স্বপ্না রানি মণ্ডলকে আনা হয়।
গোল উৎসবের ম্যাচে ৮৭ মিনিটে সুমাইয়াও পান সাফল্যের স্বাদ। ডান পায়ের ভলিতে জালে বল জড়ান। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে সাবিনার ফ্রি-কিক থেকে সুমাইয়া আবারো গোলের দেখা পান। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ঋতুপর্ণার পাসে আরেক বদলি খেলোয়াড় শামসুন্নাহার জুনিয়রের গোল করে সিঙ্গাপুরের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন।








