জাঙ্ক ফুড বা অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার (আল্ট্রা-প্রসেসড ফুড—ইউপিএফ) সিগারেটের মতোই জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং এসব পণ্যের ওপর তামাকজাত দ্রব্যের মতো কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা প্রয়োজন, এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে একটি নতুন একাডেমিক গবেষণা।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান ও ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, ইউপিএফ ও তামাকজাত পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাদৃশ্য রয়েছে। গবেষণাটি গত ৩ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী দ্য মিলব্যাংক কোয়ার্টারলি-তে প্রকাশিত হয়।
গবেষণায় বলা হয়, ইউপিএফ মূলত শিল্পকারখানায় উৎপাদিত খাবার, যাতে কৃত্রিম ফ্লেভার, রং, ইমালসিফায়ার ও প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে সফট ড্রিংকস, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস, বিস্কুট ও চিপস উল্লেখযোগ্য, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপকভাবে ভোগ করা হয়।
গবেষকদের মতে, সিগারেট ও ইউপিএফ দুটোই এমনভাবে তৈরি করা হয় যাতে মানুষ বারবার সেবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। স্বাদ, গঠন ও রাসায়নিক উপাদান এমনভাবে সমন্বয় করা হয়, যা মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড পাথওয়ে’ সক্রিয় করে এবং অতিরিক্ত আকাঙ্ক্ষা ও আসক্তি তৈরি করে।
গবেষণায় বিপণন কৌশলেরও সমালোচনা করা হয়েছে। ‘লো ফ্যাট’ বা ‘সুগার ফ্রি’ ধরনের লেবেলকে বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে গবেষকরা একে ১৯৫০-এর দশকে সিগারেট ফিল্টারকে নিরাপদ বলে প্রচারের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা বাস্তবে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খুব একটা কার্যকর ছিল না।
ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের অধ্যাপক অ্যাশলি গিয়ারহার্ট বলেন, তার অনেক রোগী খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষাকে নিকোটিন আসক্তির মতো করেই বর্ণনা করেন। তিনি জানান, কিছু সাবেক ধূমপায়ী মনে করেন, তারা সিগারেট ছেড়ে গ্যাসযুক্ত পানীয় ও চিনিযুক্ত স্ন্যাকসে আসক্ত হয়ে পড়েছেন।
গবেষকরা বলেন, খাদ্য তামাকের মতো নয় কারণ খাবার জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য। তবে এই কারণেই ক্ষতিকর খাবারের নিয়ন্ত্রণ আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। আধুনিক খাদ্য পরিবেশে মানুষ সহজে এসব খাবার এড়িয়ে চলতে পারে না।
গবেষণায় বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ, আইনি পদক্ষেপ এবং শিল্পখাতের জবাবদিহিতা নিশ্চিতসহ কঠোর ব্যবস্থার আহ্বান জানানো হয়েছে, যেখানে তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতির অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
তবে কিছু বিশেষজ্ঞ তুলনাটিকে অতিরঞ্জিত না করার আহ্বান জানিয়েছেন। কোয়াড্রাম ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মার্টিন ওয়ারেন বলেন, ইউপিএফের ক্ষতিকর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর খাবার বাদ দিয়ে এসব খাবার গ্রহণের ফলও হতে পারে।
এদিকে আফ্রিকার জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ইউপিএফের বাড়তে থাকা ব্যবহার স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে এবং অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।








