শহীদ নূর হোসেন দিবস উপলক্ষ্যে গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের লীগের কার্যালয়ের সামনে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ও শেখ হাসিনা দেশে আবারও ফিরে আসবেন বলায় গণপিটুনি দিয়ে এক ব্যক্তিকে পুলিশকে সোপর্দ করেছে ছাত্র-জনতা।
রোববার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ওই ব্যক্তি এসে স্লোগান দিলে তাকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে ছাত্র জনতা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কর্মী সন্দেহে গুলিস্তানে কয়েকজনকে মারধরের পর পুলিশে দিয়েছেন ছাত্র-জনতা। ৬ জনের বেশি এই মারধরের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
তারা জানান, সকাল থেকেই আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মী অবস্থান নেন। এ সময় সেখানে আসা কয়েকজনকে আওয়ামী লীগের কর্মী সন্দেহে মারধর করা হয়। মারধরের পর তাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেন তারা। পরে পুলিশ তাদের আটক করে নিয়ে যায়। তবে তাৎক্ষণিক ভাবে আটক ব্যক্তিদের নামপরিচয় জানা যায়নি।
জিরো পয়েন্টে দেখা নেই দেখা নেই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের
আজ সকাল থেকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত পল্টন, জিরো পয়েন্ট ও গুলিস্থান এলাকায় কোথাও দেখা যায়নি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের। উল্টো সমাবেশ প্রতিহত করার জন্য কিছু সময় পরপরই বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে এখানে আসছেন। তারা মিছিলে বিভিন্ন স্লোগানে জানান দিচ্ছেন নিজেদের অবস্থান।
রোববার বেলা ১২টার দিকে পল্টন মোড় থেকে শুরু করে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, গণপরিবহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।মানুষের উপস্থিতিও স্বাভাবিক। তবে পুরো এলাকাজুড়ে সতর্ক অবস্থায় দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। জিরো পয়েন্ট এলাকায় একটি জলকামান এবং এপিসি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এখানে দেখা যায়নি।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো বিক্ষোভ করছেন বিএনপির ঢাকার বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।
আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে এমন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ধীরে ধীরে বিক্ষোভে যোগ দেবেন।
অন্যদিকে রাজধানীর জিরো পয়েন্টে নূর হোসেন চত্বরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন। জিরো পয়েন্টে বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত রয়েছেন।
নূর হোসেন চত্বরে গণঅধিকার পরিষদের শ্রদ্ধা
শহীদ নূর হোসেন দিবস উপলক্ষে নূর হোসেন চত্বরে শ্রদ্ধা জানিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদ খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এসময় অংশ নেন।
রোববার বেলা ১১টায় জিরো পয়েন্টের শহীদ নূর হোসেন চত্বরে শ্রদ্ধা জানান তারা। এসময় তারা এক মিনিট নিরবতাও পালন করেন।
রাশেদ খান বলেন, আওয়ামী লীগ আজ গর্তের মধ্যে লুকিয়ে আছে। কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আওয়ামী লীগের কর্মীদের বলতে চাই আপনারা শেখ হাসিনার ফাঁদে পা দেবেন না। শেখ হাসিনার যদি বাপের বেটি হতো, প্রকৃতপক্ষে শেখ মুজিবের কন্যা হতো, তাহলে এই বাংলাদেশ থেকে এভাবে পালিয়ে যেত না।
প্লিজ ১ মিনিট হলেও রাস্তায় নামেন, আ.লীগকে হাসনাত
অন্তত এক মিনিটের জন্য হলেও আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের রাস্তায় নামার অনুরোধ জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে লাইভে এসে তিনি এ আহ্বান জানান।
আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের উদ্দেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘প্লিজ, আপার অনুসারী যারা আছেন, তারা একটা মিনিটের জন্য হলেও রাস্তায় নামেন। দেখা না হলে তো কথা হবে না। প্লিজ রাস্তায় নেমে আসেন, আপনাদের সঙ্গে আমরা একটু দেখা করতে চাই, কথা বলতে চাই। দেশের প্রত্যেকটি মানুষ আপনাদের একটু দেখতে চায়। আপনারা কোথায়?’
আওয়ামী লীগ নেতাদের বিদেশে বসে না থেকে দেশে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা বলছেন, আপনাদের সঙ্গে নাকি দেশের জনগণ আছে। যদি জনগণ থাকে, তাহলে তাদের নেত্রী বিদেশে কেন পালিয়ে গেল? আপনারা সবাই পালালেন কেন? মুর্খের দল কিছুই বোঝে না। ওদের কোনো আত্মমর্যাদা নেই।’
যানজটে নাকাল জিরো পয়েন্ট
সকাল থেকে অবস্থানকে কেন্দ্র করে জিরো পয়েন্ট এলাকাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সমাবেশকে কেন্দ্র করে জিরো পয়েন্ট চত্বরে শিক্ষার্থী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সমাগম বাড়ছে। এতে যানচলাচল ব্যাহত হওয়ায় আশপাশের সড়কজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে বায়তুল মোকাররম গেটের সামনে মঞ্চ স্থাপন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এতে করে জিরো পয়েন্ট থেকে বায়তুল মোকাররমগামী সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে অন্য সড়কে চাপ বাড়ছে।
এ ছাড়া, সদরঘাট থেকে গুলিস্তানমুখি সড়ক, কাকরাইল থেকে গুলিস্তানমুখি, সচিবালয় থেকে জিরো পয়েন্টমুখি সড়কে যানচলাচল একেবারে ধীরগতি দেখা গেছে। এ সময় অনেককেই পায়ে হেঁটে গন্তব্যের দিকে রওনা হতে দেখা যায়।
জিরো পয়েন্ট মোড়ে দায়িত্বরত ট্রাফিক মতিউর বলেন, গাড়ি থেমে থেমে যতটুকু ছাড়া যায়, তা করছি। আজ কর্মসূচি থাকায় এমন হচ্ছে। আশা করছি, বিকেল থেকে ঠিক হয়ে যাবে।
শনিবার আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টার পোস্ট করা হয়। যাতে লেখা, ‘১০ নভেম্বর আসুন জিরো পয়েন্টে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে’। পরে আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজে অপর এক পোস্টে নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে লেখা হয়, ‘স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায়, গণতন্ত্র ও সুবিচার প্রতিষ্ঠায় দলে দলে ঢাকায় আসুন।’ পোস্টে বিকাল ৩টায় কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানানো হয়।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘোষণার পর পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এই আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজের ভেরিফায়েড প্রোফাইলে করা পোস্টে রোববার গণজমায়েতের ডাক দিয়ে লিখেছেন, ‘পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের বিচারের দাবিতে গণজমায়েত’।
তাদের এই কর্মসূচি ঘোষণার পরপরই শনিবার রাতে গুলিস্তানে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে। তাদের কারো কারো হাতে লাঠিসোঁটাও দেখা যায়। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে সেখানে জড়ো হওয়া ব্যক্তিরা জানান, তারা আওয়ামী লীগের কর্মসূচি প্রতিহত করতে জিরো পয়েন্টে এসেছেন।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এখনও দলটি সফলভাবে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেনি। এর আগে ১৫ আগস্ট, জেল হত্যা দিবসের মতো দিনগুলো নেতাকর্মীদের পালনের আহ্বান জানালেও তাতে খুব একটা সাড়া মেলেনি।








