‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হয়ে ২০১৭ সালে চীনে অনুষ্ঠিত ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে অংশ নিয়েছিলেন জেসিয়া ইসলাম। এবার তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে থাইল্যান্ডে ‘মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। বিশ্বের ৭৫টি দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন জেসিয়া।
দর্শক ভোটে ১০ জন এবং জুরিদের পছন্দে ১০ জন নিয়ে সেরা ২০ যাবে চূড়ান্ত পর্বে। নির্বাচিত ২০ জনের একজন হতে সব প্রতিযোগীর মতো লড়ছেন জেসিয়াও। প্রতিদিনই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিযোগিতার বিভিন্ন কার্যক্রমের আপডেট জানানো হচ্ছে।
সোমবার সুইমস্যুট পরা ৭০ জন মডেলের ছবি পোস্ট করে দর্শকদের কাছে ভোট চাওয়া হয় আয়োজকদের পক্ষ থেকে। দর্শকদের ভোট ও বিচারকদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০ জনকে চূড়ান্ত পর্বে মনোনয়ন দেওয়া হবে। নির্বাচন করা হবে ‘বেস্ট ইন সুইমস্যুট’ খেতাবধারী মডেলকে। সুইমস্যুট পরা মডেলদের মধ্যে ছিলেন জেসিয়া ইসলামও। একদিকে যেমন অনেকে তার এই লুকের প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, ধেয়ে এসেছে তীব্র সমালোচনা ও কটাক্ষ।
বিষয়টি এড়িয়ে যাননি জেসিয়া। যারা প্রশংসা করেছেন, তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। আর যারা কটাক্ষ করেছেন, তাদের মন্তব্যের বিপরীতে নিজের অবস্থানও পরিস্কার করেছেন।
ফেসবুকে জেসিয়া লিখেছেন, ‘আমার সাম্প্রতিক ছবিতে আপনারা যে মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, তার জন্য ধন্যবাদ। মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার জন্য গর্বের। পাকিস্তান, মিসর, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নারীরা অংশ নিয়েছেন এখানে।’
সুইমস্যুট প্রসঙ্গে জেসিয়া বলেন, ‘সুইমস্যুট রাউন্ড আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার একটি অংশ, যেখানে সব প্রতিযোগিই অংশ নেন। এটি কারও মূল্যবোধে আঘাত দেওয়ার জন্য নয়, বরং প্রতিযোগীদের আত্মবিশ্বাস, ফিটনেসের প্রতি নিষ্ঠা ও ব্যক্তিত্ব তুলে ধরার উদ্দেশে অনুষ্ঠিত হয়। এটি বহুদিনের একটি ঐতিহ্য, যা প্রতিযোগিতার স্ট্যান্ডার্ড, ঐক্য ও বৈচিত্রকে ধারণ করে; বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির প্রতি সম্মান জানায়।’
সমালোচনাকারীদের মতামতের প্রতি সম্মান জানিয়ে জেসিয়া বলেন, ‘আমি সব ধরনের মতামতকে সম্মান করি এবং আপনাদের গঠনমূলক প্রতিক্রিয়ার জন্য কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে আমাদের মূল্যবোধকে তুলে ধরা আমার লক্ষ্য, একই সঙ্গে এই অসাধারণ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সারা বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হতে চাই। এই যাত্রায় আমার পাশে থাকার জন্য এবং সমর্থনের জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।’
জানা গেছে, আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালে। সেখান থেকে নির্বাচিত হবে সেরা ১০। এই প্রতিযোগিতা চারটি বিষয় লক্ষ্য রাখা হয় বলে ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে। তারা মূলত ফোর বি কে গুরুত্ব দেন। এই ফোর বি হলো, বডি, বিউটি, ব্রেন ও বিজসেন।
জেসিয়া জানালেন, এমন একটি আয়োজনে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার দারুণ অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফেরার পর নিয়মিত হবেন কাজে। তাঁর ভাষ্য, এখানে নানা দেশের মানুষদের সঙ্গে মিশছি। দারুণ দারুণ সব অভিজ্ঞতা হচ্ছে। প্রতিযোগিতা শেষ করে দেশে ফিরে নিজের কাজে ফিরব। চিত্রনাট্য, গল্প, নির্মাতা সবকিছু ঠিকঠাক মিললেই অভিনয়ও করব নিয়মিত।


