মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী জাহাজ পাহারায় যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর চরম সতর্কতা অবলম্বন করছে জাপান।
দেশটির একজন শীর্ষ নীতিনির্ধারক জানিয়েছেন, বর্তমান আইনের অধীনে মধ্যপ্রাচ্যে জাপানি নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর শর্ত বা আইনি বাধ্যবাধকতাগুলো ‘‘অত্যন্ত কঠিন’’।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে হামলার দুই সপ্তাহ পর উপসাগরীয় অঞ্চলে এখনও তীব্র সংঘাত বিরাজ করছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া এবং উপসাগরীয় জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে মার্কিন নৌবাহিনী শিগগিরই হরমুজ প্রণালীতে ট্যাংকারগুলোকে পাহারা দেওয়া শুরু করবে এবং তিনি মিত্র দেশগুলোকে (যার মধ্যে জাপানও রয়েছে) এই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
জাপান বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ এবং পঞ্চম বৃহত্তম তেল আমদানিকারক। দেশটির প্রয়োজনীয় তেলের ৯৫ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে, যার ৭০ শতাংশই বর্তমানে অবরুদ্ধ হরমোজ প্রণালী হয়ে জাপানে প্রবেশ করে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচির ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নীতিনির্ধারক তাকায়ুকি কোবায়াশি রবিবার এনএইচকে-এর একটি রাজনৈতিক বিতর্ক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘‘বিদ্যমান জাপানি আইনের অধীনে ওই অঞ্চলে জাপানি নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর বিষয়টি অত্যন্ত কঠিন বলে আমি মনে করি।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আইনগতভাবে আমরা এই সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করছি না, তবে বর্তমানে সেখানে যে সংঘাত চলছে, তার প্রেক্ষিতে যেকোনো সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কতার সাথে বিবেচনা করতে হবে।’’
জাপানের শান্তিবাদী সংবিধান অনুযায়ী, দেশের বাইরে নিজস্ব সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি বিষয়। গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সংসদে জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
চলতি সপ্তাহে তাকাইচির ওয়াশিংটন সফরের কথা রয়েছে, যেখানে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করবেন। বৈঠকে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কোবায়াশি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সামরিক সহায়তার আহ্বানের পেছনে ‘‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আসল উদ্দেশ্য কী’’ তা প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি অনুধাবন করার চেষ্টা করবেন। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে মার্কিন সেনা উপসাগরীয় অঞ্চলে সরিয়ে নেওয়া হলে পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তায় যেন কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়, সে বিষয়েও দুই নেতা আলোচনা করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ও শনিবার জানিয়েছে যে, হরমোজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ট্রাম্পের মিত্রদের প্রতি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর যে আহ্বান, তা তারা গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে।
এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ‘‘আমরা এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রাখব এবং সতর্ক পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’’


